বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১১৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১১২

প্রায়ই পিলার ব্যবহার করা হত কিন্তু এই ধ্বংসস্তূপে একটিও পিলার নেই। বঙ্গদেশে যত পুরাতন দেবমন্দির দেখেছি তার কোথাও পিলার ব্যবহার করতে দেখিনি। আসামের অসমিয়া সভ্যতার ভেতরও পিলার ব্যবহৃত হয় নাই। গৌর, মৈথিল, বর্তমান বঙ্গ এমন কি খাসিয়া জন্তিয়া পাহাড়ে যে সকল পুরাতন মন্দির দেখতে পাওয়া যায় তাতে পিলারের ব্যবহার মোটেই নাই। এই ধ্বংসস্তূপ সেজন্যই ভারতের স্থপতি বিদ্যার একটি অংশ বলা যেতে পারে। অনেকে হয়ত বলবেন আমি ভারতবাসী সেজন্য আফ্রিকার জংগলে যেয়েও নিজের দেশের টান টানছি। ধরে নিলাম আমার মতবাদ পক্ষপাত পূর্ণ কিন্তু আর একটা সভ্যতা দেখাতে হবে যার সংগে এই ধ্বংসস্তূপের সাদৃশ্য রয়েছে, বর্তমান সিমাইট সভ্যতার ভিতর পিলারের ব্যবহার খুবই বেশি অতএব আরব সভ্যতার সঙ্গে এর কোন সম্বন্ধ নাই একথা বলতেই হবে।

 জাম্বাবী ধ্বংসস্তূপের আশেপাশের লোকের আচার ব্যবহার সম্বন্ধে কিছু জানবার জন্য আরও কিছু সময় কাটিয়েছিলাম। আশেপাশের গ্রামগুলিতে এমন অনেক লোক আছে যাদের চুল আমাদের মত। যাদের চোখগুলো এবং ভ্রূ-যুগল বাস্তবিকই তাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। কপাল উঁচু এবং প্রশস্থ। হাত পা অবিকল স্কচ্‌দের মত। এই আকৃতির লোক সংখ্যা খুবই কম। ক্রমাগত নিগ্রো সংস্পর্শে থেকে তারাও আকৃতি বদলাচ্ছে। এদের শরীরে যদি গ্রীক অথবা আরব রক্ত থাকত তবে এদের গাত্র-বর্ণের কিছুটা পরিবর্তন নিশ্চয়ই হত। কিন্তু সেদিকে তারা একটুও অগ্রসর হয় নাই। শরীরের রং একেবারে কালো।

 দ্রাবিড় জাতের ক্রমবিকাশ এবং বিস্তৃতি সম্বন্ধে নৃতত্ববিদ্‌গণ কি বলেছেন তারাই জানেন। আমার কিন্তু এসব বই পড়ার সময় এবং