সুযোগ হয়ে ওঠেনি। মনে হয় নরডিকরা যেমন উত্তর দেশ হতে ক্রমে গ্রীষ্মপ্রধান দেশে আসবার চেষ্টা করেছিল তেমনি দ্রাবিড়গণও পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করেছিল। পৃথিবীর সর্বত্র মানুষের আসা যাওয়া করা এটা হল মানুষের প্রকৃতি। আরব, সিরিয়া, লেবানন্, বলকান প্রভৃতি দেশে এখনও দ্রাবিড় সভ্যতার সমূহ প্রমাণ পাওয়া যায়। আফ্রিকাতে তারা যে যায়নি সেকথা বোধ হয় কেহ বলেন নাই আর যদিও বা বলে থাকেন তবুও আমি বলব দ্রাবিড়গণ আফ্রিকাতেও গিয়েছিল এবং তাদের সভ্যতার চিহ্ন আজও তথায় বর্তমান রয়েছে।
আসল কথাটা হল কতকগুলি লোকের চোখ, মুখ দেখেই সেদেশে কোনও জাতির গমনাগমন নির্ণয় করা চলে না। দেখতে হবে পুরাতন বিল্ডিং, মঠ, দেব-মন্দির প্রভৃতি তারপর জাতির গমনাগমন নির্ণয় করতে হবে। আমার জানা মতে জনৈক ভারতীয় ভদ্রলোক দক্ষিণ আমেরিকাতে গিয়ে কতকগুলি লোক দেখেই সেদেশে আর্য-সভ্যতার সন্ধান পেয়ে যান। হাসির কথা বটে। দেখতে হবে ইমারত, তারপর মানুষ। এতগুলি বিবেচনা করে আমি বলতে বাধ্য জাম্বাবী ধ্বংসস্তূপ দ্রাবিড় সভ্যতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ইউরোপের যে যে স্থানে দ্রাবিড় সভ্যতার লক্ষণ দেখেছি সেই দেশগুলিতে এখনও দ্রাবিড়ের বসতি রয়েছে। তারা কত শত বৎসর পূর্বে শীতপ্রধান দেশে গিয়েছে সেকথা তারাও জানে না, অথচ রক্তের সংমিশ্রণ না হওয়ায় এখনও তাদের শরীরের কালো রং বদলাতে সক্ষম হয় নাই। দক্ষিণ আফ্রিকার নালয়, ইটেনটট্ ইত্যাদি জাত মৌলিকত্ব বজার রাখতে পারে নাই, সেজন্য শ্বেতাংগে পরিণত হয়েছে। আমার মনে হয় দ্রাবিড়গণও নিগ্রো সংস্পর্শে আসায় তাদের তামাটে রং একেবারে কৃষ্ণাংগে পরিণত হয়েছে।