বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১১৪

 স্থানীয় লোকদের সংগে যখন কথা বলছিলাম তখন তাদের কতকগুলি সদ্‌গুণের পরিচয় পেয়েছিলাম। তারা বেশি কথা বলে না। অন্যায় কাজ মোটেই পছন্দ করে না, সমাজে সর্বদাই শৃঙ্খলা বজায় রাখে। যখন তারা উত্তেজিত হয় তখন বেশি উৎপাত করে না। এরা বহু বিবাহ পছন্দ করে না। বিধবা বিবাহ প্রচলিত আছে। ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না, কিন্তু ভগবান ভূত, প্রেত এবং পিতৃপুরুষের পূজা করে। এদের আচার ব্যবহার দেখলে অনুন্নত ভারতীয় দ্রাবিড়দের সংগে বেশ সম্বন্ধ রয়েছে বলেই মনে হয়। এদের নামগুলির সংগে ভারতীয় মৌলিক তামিলদের নামের বেশ সম্বন্ধ রয়েছে। মৌলিক তামিল বলতে অব্রাহ্মণ তামিলদের কথাই বলছি। ব্রাহ্মণ তামিলদের নাম প্রায়ই উত্তর ভারতীয় হিন্দুদের নামের সংগে মিলতে দেখা যায়।

 অর্দ্ধেকটা ধ্বংসস্তুপ দেখার পর হাঁপিয়ে পড়েছিলাম। সেজন্য অনেকক্ষণ বিশ্রাম করতে হয়েছিল। বিশ্রাম করে আবার একটা পাহাড়ের উপর উঠতে আরম্ভ করি। ভাবছিলাম আজ আমি একাই ধ্বংসস্তূপ দেখছি। পাহাড়ের উপর উঠে ভুলটা ভেংগে গেল। করেকজন ইউরোপীয় মহিলা এবং পুরুষও একটি মন্দিরের প্রকোষ্ঠে বসে বিশ্রাম করছিলেন। আমাকে দেখা মাত্র তারা উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন “আমরা বেড়িয়ে যাচ্ছি, এখন আপনি দেখুন।” আমি তাদের বিশ্রামে ব্যাঘাত জন্মানোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করলাম এবং প্রকোষ্ঠটি ভাল করে দেখে নিলাম। কুঠরীটির একটি মাত্র দরজা এবং দরজার বিপরীত দিকে একটি ত্রিভুজাকৃতির নক্সা দেখতে পেয়ে ইউরোপীয়ানদের ইঙ্গিত করে বললাম “দেখুন কেমন সুন্দর একটি ত্রিভুজ। ত্রিভুফটির তিনটি কোণের পরিমাণ নব্বই ডিগ্রির বেশী হবে না।” আমার কথা শুনে ইউরোপীয়ানরা ফিতা বের করে ত্রিভুজটির মাপ নিলেন এবং গণনা করে