বললেন, আপনার কথাই সত্য। একেবারে কাণায় কাণায় নব্বই ডিগ্রি। সেই মন্দিরে দেখবার আর কিছুই ছিল না। বাইরে এসে চারিদিকের দৃশ্য দেখলাম।
পশ্চিম দিকে তখন সূর্য হেলে পরছিল। উত্তর এবং দক্ষিণ দিক একেবারে খোলা থাকায় মনে হচ্ছিল এমন সুন্দর দৃশ্য জীবনে আর দেখি নাই। কিন্তু পূর্বদিকে দৃষ্টি পড়া মাত্র মনে একটা দুঃখের ছায়া পড়তে বেশিক্ষণ লাগে নাই। মনে হচ্ছিল যেন বহু পুরাতন একটি শহর ধ্বংস হয়েছে এবং তাহারই উপর সূর্যালোক পড়ে ঝক্মক্ করছে। সংগঠন সবাই দেখতে চার। ধ্বংস কেউ দেখতে ভালবাসে না। এই ধ্বংসস্তুপটি দেখে ধ্বংসের কারণ জানতে ইচ্ছা হয়েছিল।
সর্বোচ্চ প্রকোষ্ঠে এবং তার আশেপাশে না দাঁড়িয়ে বিধ্বস্ত শহরটি দেখার জন্য যখন নামতে আরম্ভ করলাম, আমার সংগে ইউরোপীয়ানরাও নেমে আসলেন। একই সংগে আমরা বিধ্বস্ত শহরটি দেখলাম এবং একই সংগে বেরিয়ে আসলাম। পথে ইউরোপীয় পর্যটকদের সংগে যে-সকল কথা হয়েছিল আমার সেই কথাগুলি পর্যটকগণ কেপটাউনের আর্গাস নামক পত্রিকায় ছাপিয়েছিলেন। এই পর্যটকগণ বোধ হয় সর্বপ্রথম দ্রাবিড় সভ্যতা সম্বন্ধে আমার কাছ থেকেই কিছুটা শুনেছিলেন, সেজন্যই তারা এত আগ্রহ করে শুধু আর্গাস নামক পত্রিকায় নয়, নানা পত্রিকায়ই আমার কথা বিশদভাবে উল্লেখ করতে ভোলেন নাই।
আমাদের দেশে সংবাদপত্রে অনেক সময় অনেক ভাল কথাও সংবাদপত্রের মালিকের আদেশে পরিত্যাগ করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকাতে সংবাদ পরিবেশন করা সম্পাদকের উপরেই নির্ভর করে, সেজন্যই বোধ হয় আমার সম্বন্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদপত্রগুলি এত কথা প্রকাশ করেছিল।