বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১২২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১১৮

রকমের আশ্চর্য আছে, নিগ্রোদের মোটরের নীচে ফেলে হত্যা করা তার মধ্যে অন্যতম।

 এই ধরণের কথা শুনবার পর আরও কয়েকদিন বুলোবায়তে কাটিয়ে একদিন সকাল বেলা সাইকেল বাইরে রেখে পেটেলের সংগে দেখা করতে গিয়ে দেখলাম তিনি ঘরে নেই, আগের দিন রাতে কোনও কাজে অন্যত্র গিয়েছেন। পিতার পরিবর্তে পুত্র বিদায় দিল। এক ঝোঁকে সাইকেল চালিয়ে শহরের বাইরের একটি নিগ্রো দোকানে এক পেয়ালা চায়ের আশায় বসলাম। নিগ্রো রমণী চোখ মুছতে মুছতে আমাকে চা দিয়ে বলল “একটা পর্যটকের সংগে আমার ছেলে কথা বলেছিল বলেই সে বোধ হয় মোটর চাপা পড়েছে, তুমি কি সেই?” আমি বললাম আমি পর্যটক নই, এই দেখছ না, সাইকেলের পেছনে মাল বেঁধে চলেছি। আমি ব্যবসায়ী। চা খেয়ে আর বসলাম না, একটি পেনী ফেলে দিয়ে হুড় হুড় করে পাহাড়ের উপর উঠলাম। তারপরই উৎরাই। সাইকেল আপনি চলতে লাগল। পাহাড়র উপর সিংহ আছে সেই সিংহ আমার উপর লাফ দিয়ে পড়বে এসব কথা মনে হল না!

 দু’শত চব্বিশ মাইল গেলে পরে পাওয়া যাবে দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্ত। যে পথ ধরে চলছিলাম স্থানী মানচিত্রে সেই এলাকাকে পার্বত্য এবং গভীর বন বলেই বর্ণিত করা হয়েছে এই স্থানটিকে নিয়ে অনেক গল্পের বইও লেখা হয়েছে। কিন্তু আমি গল্প লিখছি না। লিখছি যা দেখেছি তাই। এই এলাকাকে পার্বত্য এলাকা বলা চলে, কিন্তু গভীর বন বলা চলে না। বন আছে কিন্তু গভীর নয়। গভীর বনে বন্য জীবের সংখ্যা কম, এখানে হিংস্র জীবের সংখ্যা এত বেশি যে, কথা প্রসংগে হিংস্র জীবের কথা বারবারই বলতে হবে। হিংস্র জীবের নাম করলে অনেক পাঠকের আবার ভয় হয়। বনের নিয়ম মানলে