বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১৯
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

বনের পশু হতে অতি সহজে রেহাই পাওয়া যায় সে সংবাদ অতি অল্প লোকই রাখে।

 বুলোবায়ো হতে ক্রমাগত ত্রিশ মাইল চলার পর হঠাৎ পথটা পাহাড়ের উপর গিয়ে উঠেছিল। বাধ্য হয়ে সাইকেল হতে নামলাম। সাইকেল হতে নামার পরই অবসাদ এল। কিন্তু উপায় নাই বালা-বালা (Balla-Balla) পৌছতে হবেই। ঠিক করলাম বালা-বালাতে গিয়ে রেলগাড়ীর আশ্রয় নেব। পথ ঘেঁসেই রেল লাইন চলছিল সেজন্য বেশ আনন্দ হচ্ছিল। আর মাত্র তের মাইল গেলেই বালা-বালা। পথ ক্রমেই উপরের দিকে উঠছিল। পথের দু’দিকে বন্য জীবের বেশ সাড়া পাচ্ছিলাম। বন্য জীবের অস্তিত্ব বুঝতে পেরেই আর অগ্রসর হলাম না, কতকগুলি শুক্‌না পাতা একত্রিত করে চট্‌পট্ করে আগুন জ্বালিয়ে কয়েকটি শুকনা ডাল তাতে আহুতি দিলাম। আগুনটা জমে উঠবার পর রুটি বের করে আগুনে সেকে খেলাম। ওয়াটার বোতল হতে তৃপ্তির সহিত জল পান করে আগুনের পাশেই শুয়ে থাকলাম। আধ ঘণ্টা সময় ঘুমিয়ে তারপরও আগুনের কাছে বসে থাকতে হল কারণ এই সময়টাতে অনেক পশু খাদ্য আহরণ করে।

 বেলা যখন তিনটা তখন আবার পার্বত্য পথে অগ্রসর হলাম। চলার পথে একটি লোকের মুখও দেখতে পেলাম না। লোক মুখ দেখার জন্য বড়ই উদ্‌গ্রীব ছিলাম। বালা-বালাতে পৌঁছার পূর্বে কয়েকজন নিগ্রোর সংগে দেখা হল। তারা একটি কথাও বলল না। এদিকে নিগ্রোরা বাইসাইকেল যোগে অনেকে আশি-নব্বই মাইল পথ ভ্রমণ করে ও পরের দিন নূতন তেজে আবার চলতে সক্ষম হয়! এই শ্রেণীর লোকের কাছে আমার মত লোকের আদর যত্ন পাওয়া অন্যায় আব্দার মাত্র।

 বালা-বালা ছোট্ট গ্রাম। এখানে একটি ইউরোপীয়ান হোটেল