মুখে হাসি ফুটে উঠল। রাত্রি যাপন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হল। পরের দিন সকালে অজানা পথে অজানাকে জানবার জন্য পুনরায় রওয়ানা হলাম।
বালা-বালা হতে গাওএণ্ডা (GWANDA) চল্লিশ মাইল পথ। ভাবছিলাম চল্লিশ মাইল পথ চার ঘণ্টার মধ্যেই চলে যাব। পথও বেশি উঁচু-নীচু নয়, কিন্তু অর্দ্ধেক পথে এসেই গাছের মড়মড়ি, ভূমিকম্প এসব অনুভব করলাম। এতে একটুও ভীত হলাম না, রাস্তা ধরে এগিয়ে চলালম। এক মাইল পর্যন্ত রাস্তার উপর সবই দেখা যায় অথচ এত গণ্ডগোল কিসের? একটু আগে যেয়ে দেখি বনগরুর পালে সিংহ পড়েছে। একটা সিংহ একটা গরুকে নেবেই, আর গরুগুলি প্রাণ বাঁচাবেই। দেখলাম একটা দুগ্ধবতী গাই বেশ লড়াই করছে আর এক পা এক পা করে হটে যাচ্ছে। অমনি গরুগুলি সিংহটাকে আক্রমণ করছে। এদিকের বনগরুগুলিও মহা হিংস্র। এদের সংগে সিংহ সর্বদা জয়ী হয় না। যে-স্থানটাতে দাঁড়িয়ে ছিলাম তার আশে-পাশ একটিও বৃক্ষ ছিল না। পবনবেগে সাইকেল চালালাম, ভয় হতে লাগল হয় সিংহ নয় বন্য গরু আক্রমণ করবে। শেষটায় আর পারলাম না, সাইকেল হতে নেমে বিশ্রাম করতে বসলাম! বন্যজীব কিন্তু এল না, আপন মনেই বললাম “বনের বাঘ হতে মনের বাঘই বড়।” আর যদি সাইকেল চালাই তবে কলিজা ফেটে মারা যাব। অনেকক্ষণ বিশ্রাম করার পর হঠাৎ একখানা মালগাড়ী আমারই পাশ দিয়ে চলে যেতে দেখে মনে বেশ আনন্দ হল এবং সাহসও বাড়ল।
এদিকে সিংহ এবং বনগরুতে প্রায়ই লড়াই হয়। গরু মানুষকে যেমন আক্রমণ করে না, সিংহও মানুষের কাছে আসে না। যদি তাই হত তবে আজ আর আমাকে আফ্রিকার ভ্রমণ কাহিনী লিখতে হত না।
বিকালে গোয়াণ্ডাতে পৌঁছলাম। এখানেও প্রকাণ্ড একটা হোটেল