আছে। সেই হোটেলে শ্বেতকায় ছাড়া আর কেহই স্থান পায় না। হোটেলে গেলাম না, নিগ্রো গ্রামেই থাকতে মনস্থ করলাম। একখানা ঘর এক শিলিং দিয়ে ভাড়া করলাম। যে লোকটা ঘরে থাকত তার একটা বিছানাও ছিল, বেশ সুন্দর বিছানা। গানি-বেগের ভিতর খড় পূরে গদি করেছে। সেই গদির উপর মস্ত একটা হরিণের চামড়া বিছানো। ভদ্রতা করে হরিণ বলছি, আসলে কিন্তু তা হল বন্যগরুর চামড়া। বিকালে নিগ্রোটি পাক করে দিল। লোকটা পাকে বেশ ওস্তাদ। একটা ছোট মুরগী কেটে তার ঝোল এবং ভাত পাক করেছিল। পাড়ার লোকের কাছ থেকে ঘিয়ে ভাজা রুটি এবং দুধও নিয়ে দিয়েছিল। সন্ধ্যার পূর্বেই আমাকে খাইয়ে সেও কিছু খেয়ে নিল এবং কোথায় চলে গেল। আমি আর কোথাও না গিয়ে ঘরের ভেতর আগুন জ্বালালাম এবং রাত্রে যাতে কোনও বন্যজীব ঘরের ভেতর মুখ না ঢুকোয় সেজন্য অনেকগুলি শুকনো কাঠ জমা করে রাখলাম। বাইসিকেলের বাতিতে তেল ছিল। সংগে মোমবাতি ছিল, টিপ্পাতির ব্যাটারী ঠিক ছিল সেজন্য অনেকটা নিশ্চিন্ত ছিলাম এবং সন্ধ্যা না হতেই দরজা ভেজিয়ে দিরে শুয়ে পড়লাম।
রাত বারটার সমর ঘুম ভেংগে গেল। উপর হতে টুপ্টাপ্ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। আগুনটা একটু চড়িয়ে দিয়ে বিছানার উপর উঠে বসলাম, বাইসিকেলের লেম্প্ ভাল করে জ্বালিয়ে কাছে রেখে দিলাম। কিছু সময় না যেতেই দেখি একটা ছোট সাপ ঘরের ভেতর মুখ ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তখনই জ্বলন্ত একটুকরা কাঠ তার সামনে ধরে দিলাম, সাপ পালাল। তারপর একদল খরগোস ঘরের কাছে এসে গলাবাজি আরম্ভ করল। খরগোসের কিচির-মিচির শব্দ যদি আমার অজানা থাকত তবে আমি হয়ত অজগর ভেবে অজ্ঞানই হয়ে যেতাম। এইভাবে রাত