বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২৩
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

তিনটা পর্যন্ত কাটল। তারপর বৃষ্টি বন্ধ হয়ে আকাশ পরিষ্কার হল। চন্দ্র দেখা দিল। চাঁদের আলো দিনের মতই মনে হল। দরজা খুলে দিয়ে একটি মাটির হাড়ীতে জল গরম করতে বসলাম। গরম জলের সাহায্যে কাফি তৈরী করে খেয়ে বড় ছুরিটা হাতে নিয়ে বাইরে পাইচারী করতে বের হলাম। ভাবলাম এমন সুন্দর চাঁদের আলো ক’জন দেখেছে। মনটা আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠল এবং মনের মধ্যে কি দু’টা চিন্তা এমনই মল্লযুদ্ধ আরম্ভ করে দিল যাতে ভুলে গেলাম আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ মনে হ’ল ভাবপ্রবন হলে চলবে না বাস্তব চিন্তা করতে হবে। মাথার উপর দিয়ে দু’টা পাখী চলে গেল। বুঝলাম তারাও আহার অন্বেষনে বের হয়েছে।

 কাফির বিস্বাদটা তখনও মুখে ছিল। সংগে চিনি না থাকায় বিনা চিনিতেই কাফি খেয়েছিলাম। ওয়াটার বোতল হতে জল নিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেললাম এবং একটি সিগারেট ধরিয়ে আবার সেই পুরাতন চিন্তায় মন দিলাম। মনে হচ্ছিল আমি এসব করছি কেন? এত কষ্ট মাথা পেতে নিচ্ছি, এত নির্জনতা ভোগ করছি কার জন্য? বাস্তববাদীর পক্ষে এসব চিন্তা করা অন্যায়। হঠাৎ দেখতে পেলাম একটা কালো চিতাবাঘ আমারই দিকে চেয়ে আছে। তৎক্ষণাৎ আগুনটা বাড়িয়ে দিয়ে টিপবাতিটা চিতাবাঘটার উপর ফেলতেই চিতাবাঘ এক লাফে জংগলে চলে গেল। আফ্রিকাতে সুন্দর বনের বাঘ নাই, আছে চিতাবাঘ। চিতাবাঘ মানুষ আক্রমণ করে সত্যকথা কিন্তু মানুষ যদি চিতাবাঘের সংগে লড়াই করে তবে চিতাবাঘ মানুষকে সহজে কাবু করতে পারে না। অনেক নিগ্রো খালি হাতে লড়াই করে চিতাবাঘকে হত্যা করতে সক্ষম হয়। চিতাবাঘটাকে দেখার পর দরজা খুলে বসে থাকতে ইচ্ছ হল না। সত্য কথা বলতে কি বেশ একটু ভয় হল। দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে পুনরায় কাফি তৈরী