বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

জিজ্ঞাসা করে সময় কাটালাম। পেদ্রোর কথাশুনে মনে হল তাদের মধ্যে রাজনীতির প্রভাব মোটেই প্রসার লাভ করে নাই।

 সিনিয়র পেদ্রোর যাতে পলিটিকেল জ্ঞান হয় সেজন্য চেষ্টা করতে বাধ্য হই। এই ধরনের লোক প্রায়ই ইণ্ডিয়ানদের বিরুদ্ধে নানারূপ খারাপ মত পোষণ করে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর হীন প্রবৃত্তিগুলির পরিবর্তন করতে সক্ষম হই। পূর্বে তিনি মদ খেয়ে এবং জুয়া খেলে সময় কাটাতেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি বদ্ অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করে প্রগতিশীল সাহিত্যে মনোনিবেশ করেন এবং বিশেষ করে বুঝতে সক্ষম হন ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে সংমিলিত জনমত গঠন না করতে পারলে তাদের অদূর ভবিষ্যত অন্ধকারাচ্ছন্ন। পেদ্রোর মনের গতি কয়েকদিনের মধ্যেই পরিবর্তন করতে পারায় লোক অবাক হয়ে যায়। তারা ভাবছিল সিনিয়র পেদ্রো ধর্ম বই পড়ছেন এবং সত্বরই একজন পাদ্রী হবেন। কিন্তু এরপর যখন পেদ্রো কালো নিগ্রোদের সংগে মেলমেশা আরম্ভ করলেন তখন অর্দ্ধনিগ্রো এবং সাদানিগ্রোদের মধ্যে, এই নিয়ে সমালোচনা আরম্ভ হল। পূর্ব হতেই অর্দ্ধনিগ্রো এবং বর্ডার লাইনারদের মধ্যে আশা যাওয়া এমন কি বিয়ে পর্য্যন্ত চলত। কিন্তু কালো নিগ্রোদের সংগে তাদের কোন সম্পর্ক ছিল না। আমার আদেশ অনুযায়ী পেদ্রো কালো, অর্দ্ধকালো, ব্রাউন, সাদা নিগ্রো সকলের সংগে মেলামেশা করতে থাকেন। নিগ্রো জাতের যাহাতে একতা হয়, সোহেলী ভাষা যাতে সকলে গ্রহণ করে এবং নিগ্রোদের সংগে কোন ধর্মের সম্পর্ক না থাকে এই নিয়েই তিনি আলোচনা করতে থাকেন। এতে তার স্ত্রী প্রকাশ্য ভাবেই বলেন “ভারতীয় পর্যটকের সংশ্রবে আসার পর থেকে পেদ্রো বিপথগামী হয়েছেন। তিনি ইস্‌লাম অথবা খৃষ্ট ধর্মকে ধর্মরূপে গ্রহণ করেন না। লস্‌মন যদিও এ সম্বন্ধে প্রকাশ্যে কিছুই বলতেন