কতকগুলি ইউরোপীয়ানও সেখানে বাস করে। ইউরোপীয়ানদের কাছও ঘেসলাম না। স্থানীয় একমাত্র নিগ্রো হোটেলে গিয়ে পরিচারিকাকে ডেকে আমার জন্য ভাল বিছানা করে দিতে বললাম। যুবতী মিশনারী স্কুলে শিক্ষা পেয়েছিল এবং ইণ্ডিয়ানদের সংগে তার মেলামেশা ছিল। সে আমাকে প্রথমেই সতর্ক করে বলল “এখানে সকল সুবিধাই পাবে কিন্তু ভদ্রভাবে চলতে হবে একথাটা মনে রাখা চাই।” আমি সুর নামিয়ে বললাম তাই হবে মেম। যুবতী বেশ ভাল করে বিছানা করে দিয়ে বলল “বিছানায় এখনই শুলে ত হবে না আগে গরম জলে স্নান করুন। হাত পা হতে ডুডু পোকা (জিগার্স) বের করে কিছু খান তার পরে শোবেন। হাঁ মেম, আগে স্নান করব, তারপর হাত পা পরীক্ষা করাব, দেখব তাতে ডুডু পোকা আছে কি না!
হাঁ তাই করুন বলেই যুবতী চলে গেল। ভাল করে স্নান করে একটি লোক ডেকে হাত পা পরীক্ষা করলাম। হাত পায়ে একটাও ডুডু পোকা ছিল না। তারপর রুমে বসে খাবারের জন্য অপেক্ষা করলাম। কতক্ষণ পর একটি শ্বেতকায় যুবক আর একটি যুবতী আসল এবং তাদের পরিচয় দিল। নামে তাদের পরিচয় পাওয়া কঠিন। তারপর যখন বলল তারা শ্বেতকায় নয় কৃষ্ণকায় তখন আমার চৈতন্য হল। অনেকক্ষণ চেয়ে থেকে দেখলাম তাদের চোখের তারা এবং চুল কটা নয়—কালো, একটু মোটা। বুঝলাম এদের শরীরে নিগ্রো রক্ত রয়েছে। যুবক যুবতী আমার কাছে অনেকক্ষণ বসে থাকল। তারপর নিগ্রো যুবতী আমাকে খাবার ঘরে নিয়ে গেল।
সুন্দর টেবিলের উপর ধবধবে টেবিল ক্লথ, তিনজনের খাবারের উপযুক্ত কাটা-চামচ এবং নানা রকমের চাকু ছিল। সর্বপ্রথমই জানিয়ে দিলাম আমি হরেক রকমের চাকু ব্যবহার করতে জানি না বলে যেন