তারা আমাকে ক্ষমা করে। তারা সমস্বরে বলল “দু’বৎসর পূর্বেও আমরা হাতে খেতাম, হালে কাটা-চামচ ব্যবহার করতে শিখেছি।
যে যুবতী আমাদের খাদ্য পরিবেশন করবেন তিনি কোন শ্বেতকায় ধনীর বাড়ীতে চাকরি করতেন। তাঁর ইচ্ছা নিগ্রোরা শ্বেতকায়দের মত কাটা-চামচ ব্যবহার করুক। কথা মন্দ নয়, নিগ্রোরা যদি ভাল করে ইউরোপীয়ান প্রথা গ্রহণ করতে পারে তবে লাভ তাদেরই। আমি ত নিগ্রো নই, আমি হলাম ভারতবাসী, আমরা ভালতে যেমন প্রতিবাদ করি, মন্দতেও তেমনি প্রতিবাদ করি। প্রতিবাদ করে বললাম “কাটা চামচ আবার ভাল ব্যবহার কিসের?” এমনি সময় নিগ্রো যুবতী এসেই বললে “কুলিরা তা বুঝবে না, তুমি যে একজন কুলি সে-কথা আমি ভাল করেই জানি। তোমাদের জাতের ইতিহাসও আমার জানা আছে। এখন খাও মিষ্টার কুলি, এখনও দক্ষিণ আফ্রিকার পৌঁছাও নাই। এখনও বুঝতে পার নাই তোমরা আমাদের চেয়ে একচুলও উচ্চস্তরে থাক না, ভালকে ভাল বলতে শিখো। নিগ্রো মেমের কড়া মেজাজের কাছে হার মানতে হল। কারণ হাজার হোক, স্ত্রীলোক ত? স্ত্রীলোকের সম্মান নেই সিমেটিকদের মধ্যে, আমি সিমেটিক নই, সেজন্য স্ত্রীলোকদের সম্মান দিতে বাধ্য।
অর্দ্ধ-নিগ্রো বুবক যুবতীর মত আমিও নানারূপ কাটা-চামচ ব্যবহার করলাম এবং ছয় রকমের খাদ্য বারখানা কাটা চামচের সাহায্যে খেলাম। খাবারের বিল এল। বিল দু’ রকমের। অর্দ্ধ-নিগ্রো যুবক যুবতীকে ছয় পেনী করে চার্জ করা হয়েছে এবং আমাকে করা হয়েছে এক শিলিং ছয় পেনী। সংগে সংগে কারণটিও বলা হল। নিগ্রো যুবতী বললেন আপনি ইণ্ডিয়ান আপনাদের আয় বেশি আর এঁরা হলেন অর্দ্ধ-নিগ্রো, এদের আয় হল খুবই কম। এমন কি নিগ্রোদের তুলনায় কম। আজ