কি করে এরা এক শিলিং রোজগার করলেন তাই হল আশ্চর্যের বিষয়। ইউরোপীয়ানরা এদের অন্তরের সহিত ঘৃণা করে, এমন কি সামান্য চাকরী দিতেও রাজি হয় না। সামান্য চাকরী না দেবার একমাত্র কারণ হল এদের শরীরের রং শ্বেতকায়দের মতই, শুধু চোখ কটা নয় এবং চুলগুলি একটু মোটা। এখনও এদের ধমনীতে নিগ্রো রক্তের সিট্ রয়েছে।
যারা সত্য কথা বলতে লজ্জা অনুভব করে তাদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে সত্যের উদ্ঘাটন সর্বসাধারণের কাছে করবই। এই অর্দ্ধ-নিগ্রো বুবক যুবতীর সম্বন্ধে আমি অন্যত্র কিছু ছিখেছিলাম কিন্তু দুঃখের সহিত বলছি শ্লীলতার দোহাই দিয়ে আমার কথাগুলি পরিত্যাগ করা হয়। এই যুবক যুবতীয় জন্ম যে প্রকারেই হউক এদের জীবন যাপন প্রণালী বড়ই কষ্টের। যুবতীর সৌন্দর্য ছিল, শ্বেতকার যুবকগণ যুবতীকে প্রচুর অর্থের বিনিময় উপভোগ করত। অর্দ্ধ-নিগ্রো যুবকেরও যৌবন ছিল তাকে নিয়ে ধনী পরিবারের যুবতীরা টানা-হেচরা করত। যুবকও এই করে বেশ দু’ পয়সা রোজগার করত। অশ্বেতকায় সুন্দর যুবক যুবতী নিয়ে শ্বেতকায়রা টানা-হেচকা করতে পারে অথচ তাদের সমাজে স্থান দিতে পারে না সে কেমন কথা? যে সমাজ নৈতিক চরিত্রে এত হীন সেই সমাজে আঘাত করলে আঘাত কোনমতেই সহ্য করতে পারে না। এরূপ অন্যায়ী সমাজের প্রতি আঘাত না করে শিক্ষার ভেতর দিয়ে যে-ই সমাজের গলদ দূর করতে যাবে সে-ই কার্যে নিষ্ফল হবে।
নিগ্রো রমণী শিক্ষিতা। বি-এ, অথবা এম্-এ পাশ নন্। ইংলিশ ভাষায় বেশ জ্ঞান আছে। বড় বড় বই তার পড়া হয়েছে। সাধারণ জ্ঞান প্রচুরই আছে। তবে একটু কড়া মেজাজ। এই গ্রামের মধ্যে এই যুবতীই কর্তৃত্ব করেন। সেদিন যুবতীর সংগে কথা হল না। পরের দিন থাকব জানিয়ে আরামদায়ক বিছানায় শুয়ে থাকলাম।