বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৩৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২৯
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

 বেটব্রিজ হতে দক্ষিণ আফ্রিকার আরম্ভ। রডেসিয়া যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার অন্তর্গত নয় তবুও এদিকের লোক দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক নিয়ম কানুন মেনে চলে। যদিও ইণ্ডিয়ানদের প্রকাশ্যে কুলি বলে না, তবুও কুলির মত ব্যবহার করে। ওয়েষ্ট নিকলশন্ গ্রামটা বেশ বড়। ঘুম থেকে উঠেই গ্রামটা দেখার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম। একটু যেতে না যেতেই পূর্ব দিনের যুবক যুবকী আমাকে হোটেলে ফিরিয়ে নিয়ে এলো এবং উভয়ে গত রাত্রে কি করেছে তাই অকপটে বলল। গত রাত্রে ওদের আয় হয়েছিল চার পাউণ্ড। চার পাউণ্ডে ওদের এক মাসের মত থাকা খাওয়ার খরচ চলবে। উভয়ে এরা ভাই বোন। এরা একে অন্যের কাছে সকল কথা অকপটে বলা-কওয়া করে। এদের ইচ্ছা সত্বরই একটা ঘর তৈরী করে এবং গৃহস্থ হয়। সেজন্যই তারা যেন-তেন প্রকারে টাকা রোজগার করছে।

 আমরা যখন কথা বলছিলাম তখন নিগ্রো যুবতী ঘরে প্রবেশ করেই বলল “তোমরা বোধহয় পর্যটকের কাছে সকল কথা বলে দিয়েছ?” যুবক বললে হাঁ, আমরা সকল কথা বলে দিয়েছি। এতে পাপের কিছুই নেই। পর্যটক জেনে নিক আফ্রিকার জীবন কেমন সুখের ও সুন্দর। “হ্যাঁ বল বল, সবই বল, আমি পর্যটকের খাবার নিয়ে আসি, তোমরাও বোধ হয় কিছু খাবে?” হ্যাঁগো, কিছু খাবার জন্যই এসেছি, দয়া করে কিছু নিয়ে এস। নিগ্রো যুবতী চলে যাবার পর নিগ্রো-রক্ত সমন্বিত ভাই বোন বলল “আমরা আপনাকে চিনি, আপনি এখন বেটব্রিজের দিকে যাচ্ছেন তাও শুনেছি। আপনি এখানে আসার পূর্বেই দুজন নিগ্রো এসেছিলেন, তারা আপনার পরিচয় আমাদের কাছে দিয়ে গেছেন। আমরা আপনার সংগে মেলামেশা করার একটি উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য অতি অল্প কথায় আপনার কাছে বলব। আপনি যখন