বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৩৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১৩০

দক্ষিণ আফ্রিকাতে পৌঁছবেন তখন ভারতবাসীদের বলবেন তারা যেন নিগ্রোদের সংগে সংযোগ রেখে কাজ করে নতুবা তারাও যেমন অত্যাচারিত হবে আমরাও তেমনি অত্যাচারিত হব। এই দেখুন যে-কোন শ্বেতকায় এই দেশে আসার পর দৈনিক চল্লিশ শিলিং করে যে-কোনও কাজের জন্য পায়। তাদের বেকার করে রাখা হয় না। আর আমরা যদি কাজ চাই তবে শ্বেতকায়রা সর্বপ্রথম দেখে আমাদের শরীরের সুগঠন এবং মুখের লাবণ্য। আমাদের তারা কাজ দেয় না। যতদিন মুখের লাবণ্য থাকে ততদিন আমাদের কাছে কাছে রাখে তারপর তাড়িয়ে দেয়। এসব অন্যায় হতে রেহাই পেতে হলে আমাদের কাজ করার অধিকার শ্বেতকায়দের কাছ থেকে আদায় করতে হবে। কাজের অধিকার পেতে হলে ইণ্ডিয়ান, আফ্রিকান এবং আরবদের সকলের মিলে বিদ্রোহ করতে হবে নতুবা দক্ষিণ আফ্রিকা এবং রডেসিরার শ্বেতকায়গণ আমাদের টুকরা টুকরা করে হয় আটলাণ্টিক নয় ভারত মহাসাগরে ভাসিয়ে দেবে।

 আর একটি কথা এখন থেকে ভাল করে মনে রাখবেন “এখান থেকে বেটব্রিজ প্রায় একশত মাইল। পথ কোথাও প্রশস্ত আর কোথাও একেবারে সংকীর্ণ। এদিকে মোটর বাস চলাফেরা করতে দেওয়া হয় না। অবশ্য ইউরোপীয়ানরা মোটর বাস্, মোটরকার সবই চালাতে পারে, কোনও ইউরোপীয়ান ভুলেও আপনাকে তাদের গাড়ীতে স্থান দেবে না। পথে মাত্র তিনটি গ্রাম দেখতে পাবেন। এই তিনটি গ্রামের লোকসংখ্যা কখনও বাড়ে আর কখনও বা একেবারে কমে যায়। গ্রামের লোককে কেউ মেরে ফেলে না, গ্রামের লোক খাদ্যান্বেষণের জন্য বনে জংগলে চলে যায়। যদি গ্রামে লোক না থাকে তবে আপনি গৃহে প্রবেশ করবেন এবং যে-কোন গৃহে আশ্রয় নিবেন। নিগ্রোরা কোন আপত্তি করবে না।