বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৩৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩১
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

কিন্তু মনে রাখবেন এ-পথে অনেক নিগ্রোকে ইচ্ছাপূর্বক মোটর চাপা দেওয়া হয়। যদি দক্ষিণ আফ্রিকার কোনও জংলী বুয়র বুঝতে পারে আপনি একজন বিশিষ্ট লোক তবে হয়ত সে আপনাকে মোটর চাপা দিতে ত্রুটি করবে না।

 কথা শুনে শিহরে উঠলাম। মালয় দেশেও দুটি রবার বাগানের ইউরোপীয়ান আমাকে মোটর চাপা দিতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা তাদের কাজে সফল হতে পারে নাই। মালয় দেশের পথের দুদিকে খাল ছিল। যখনই পেছন থেকে মোটরের শব্দ শুনতাম তখনই সাইকেল সমেত খালে গিয়ে পড়তান। এদিকেও সেরূপ কিছু করতে হবে, নতুবা আর উপায় থাকবে না। দীর্ঘনিঃশ্বাস পরিত্যাগ করে নিগ্রো যুবক যুবতীকে বললাম “বন্ধুগণ! এই ত আমাদের জীবন, এ জীবন এমনিভাবে বয়ে নিয়ে যাওয়া কত কষ্টকর তা আপনারা বেশ ভাল করেই বুঝতে পারছেন। আমিও তার ভুক্তভোগী। তা বলে আমাদের ভয় করলে চলবে না, আমাদের চলতে হবেই।

 আমাদের খাবার নিয়ে নিগ্রো যুবতী ঘরে প্রবেশ করল এবং তিনজনকেই গম্ভীরভাবে বসে থাকতে দেখে বললে “ঔষধ তবে কাজ করেছে।” অর্দ্ধ-নিগ্রো যুবতী বললে “ঔষধ সুস্থ দেহে দিতে হয় না। পর্যটকের শরীর বেশ সুস্থ। আজ আমরা ওকে আমাদের পরিচালিত বিদ্যালয়টি দেখাবো এবং উনি বিদ্যালয়টি দেখে বুঝতে পারবেন আমরা কতদূর কাজে অগ্রসর হয়েছি। আমি তখন বিদ্যালয়ের কথা একটুও ভাবছিলাম না। আগামীক্য এখান থেকে রওয়ানা হয়ে কিভাবে পথ চলব সে-কথাই মনে তোলপার হচ্ছিল।

 খাওয়া শেষ করে আমরা গ্রাম দেখার জন্য বের হয়ে পড়লাম। গ্রামের অবস্থা বিশেষ ভাল নয়। কারো ঘর ভেংগে পড়েছে আর