বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১৩২

কারো ঘরের পেছনে আবর্জনা জমে আছে। ঘরের সামনে আবর্জনার মধ্যে বসেই শিশুরা খেলছে। বেকার যুবক-যুবতীরা ঘরের সামনে রৌদ্রে বসে আনমনে চেয়ে আছে। বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধেরা ছেঁড়া অপরিষ্কার কাপড় পরে পথেরই দিকে তাকিয়ে আছে। বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধাদের দেখলেই মনে হয় এদের জীবনের কোনও মমতা নেই। মৃত্যুতেই শান্তি, জীবিত থাকলেও ক্ষতি নেই। একে ত নিগ্রোদের মুখের আকৃতি বদখতে তার উপর যদি ওরা অপরিষ্কৃত থাকে তবে দেখতে অনেকটা বানরের মতই দেখায়। গ্রামটা যতই দেখছিলান ততই মনে হচ্ছিল যেন একটি বানর পল্লীতে ভ্রমণ করছি। কোন কোন নিগ্রো গ্রামে দেখেছি তারা মাথার চুল একেবারে চেঁছে ফেলে। যারা মাথার চুল একেবারে ফেলে দেয় তাদের মাথার উকুন হতে পারে না। স্নানের সময়ও সুবিধাই হয়। কিন্তু এই গ্রামে স্ত্রী বা পুরুষ কেউ মাথার চুল একেবারে ফেলে দেয়নি বলে এদের আরও খারাপ দেখাচ্ছিল। অর্দ্ধ-নিগ্রো পুরুষটিকে জিজ্ঞাসা করলাম “মশাই এরা কেন মস্তক মুণ্ডন করে না? মস্তক মুণ্ডন করলে এদের মুখের সৌন্দর্য অনেকটা বাড়ত।”

 যুবক দুঃখের হাসি হেসে বলল “এখানে কেউ সুন্দর হতে চায় না, একথা যদি আপনি ভেবে থাকেন তবে সেটা আপনার ভুল হবে।”

 এখানে এমন লোক কেউ আসেনি যাতে এদের উন্নতির পথ বলে দিতে পারে। এই যে অবস্থা দেখছেন তা হল প্রাকৃতিক। গ্রামে হোটেল খোলার পর হতে এই গ্রামের লোক চিনি কাকে বলে প্রথম দেখেছে এবং চিনি খেতে যে মিষ্ট তা বুঝতে পেরেছে। আমরা এ গ্রামের লোক নই। হোটেলওয়ালী অন্যগ্রাম থেকে এখানে এসেছেন। আমাদের সর্বপ্রথম কাজ হ’ল এ গ্রামে নিজকে স্থাপিত করা, তারপর গ্রামের উন্নতিতে হাত দেওয়া। হোটেলওয়ালী এখানে এসেই নিজেকে