বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৩৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১৩৪

কোথাও গর্ত আর কোথাও বালি একত্রিত হয়ে ঢিবি হয়ে রয়েছে। কোথাও গৃহপালিত জীবের মোটা মোটা হাড় একত্রিত করে রাখা হয়েছে। এসব হাড় হতে দুর্গন্ধ আসছিল। আমরা নাকে রুমাল দিলাম না। রুমাল দেওয়াটা দরকারও মনে করলাম না, কারণ নিগ্রো-গ্রামেও নানারূপ দুর্গন্ধ থাকে, শুধু হোটেলের চারিদিকই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিল।

 ইউরোপীরান বসতিতে পৌঁছামাত্রই মনেরও পরিবর্তন হল। সুন্দর পথ। পথের দুদিকে বাঁধানো ফুটপাথ। ফুটপাথের পরেই ফুলের বাগান। ফুটপাথ ধরে হাটতে আমার সাথীরা খুবই ভয় পাচ্ছিল। আমিই শুধু ফুটপাথের উপর দিয়ে চলছিলাম। কতকক্ষণ যাবার পরই একখানা গ্রোসার সপ্ (মুদির দোকান) দেখতে পেলাম। দোকানে দৈনিক সংবাদপত্র থেকে আরম্ভ করে সব কিছুই ছিল। আমার সাথীরা দোকানে প্রবেশ করল না। আমি দোকানে প্রবেশ করে জোহান্সবার্গ হতে প্রকাশিত ডেইলী এক্সপ্রেস এবং নিউ আউটলুক্ বলে দু’খানা সংবাদপত্র এবং লণ্ডন হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ডেলী মিরার এবং ডেলী ওয়ার্ল্ড কিনেই একটি বোতলে রক্ষিত ক্রিম্ দেখতে পেয়ে দোকানীকে ক্রিমের বোতলটিও দিতে বললাম। দোকানী ক্রিম্ বোতলটি এক শিলিং ছয় পেনীতে বিক্রয় করল এবং জিজ্ঞাসা করল আমি কোন্ দেশের লোক। আমি যখন তাকে আমার পরিচয় দিলাম তখন সে আর কোন কথাই বলল না, এমন কি আমার মনে হয় ক্রিম বিক্রি করার জন্য সে দুঃখিত হয়েছে এবং সে যদি জানত আমি ইণ্ডিয়ান তবে সে আমার কাছে বিক্রি করত না।

 গ্রোসারী দোকান পার হয়েই কয়েকখানা বাংলো ধরণের বাড়ী দেখতে পেলাম। বাংলোগুলিতে বোধহয় রেলকর্মচারী থাকে। এই ভেবে সেদিকে অগ্রসর হলাম। পথে দেখা হ’ল একজন ব্যবসায়ী