না, কিন্তু মনে মনে তিনিও অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। এমতাবস্থায় স্থান ত্যাগই আমার পক্ষে ভাল হবে ঠিক করলাম। লস্মন শ্রেণীর লোক এবং ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সকল সময়েই অন্ধ থাকতে ভালবাসে সেজন্য তাদের কাছে শুনোভাব প্রকাশ করা বিপদজনক হবে ভেবে কিছুই বললাম না।
পেদ্রো বুঝতে পেরেছিলেন সত্বরই আমি স্থান ত্যাগ করব সেজন্য তিনি কয়েক দিনের জন্য ছুটি নিয়ে আমার কাছে বসে সময় কাটাতে থাকেন। এতে লস্মনের ভাবান্তর হয়। আমি এবং পেদ্রো কি কথা বলি জানবার জন্য তিনিও আমার কাছে বসে থাকতে বাধ্য হন। মিষ্টার লস্মনের পরিচয় অনেকটা বলা হয়েছে। এখানে আর তার পুণারাবৃত্তি করা হল না। লস্মনের উপস্থিতিতে আমরা ভাষাতত্ত্ব, সমাজতত্ব, এবং ভারতের পরাধীনতার কথাই বিশেষ করে আলাপ করতাম। লস্মন দেখলেন আমি ভারতের কথাই বেশি ভাবি এবং আলোচনাও করি সেজন্য তিনি আমাকে একদিন তার বোনের বাসায় নিয়ে যান। তার বোনের বাসায় ভোজের আয়োজন হয়েছিল এবং অনেক তামিল ভদ্রলোক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভোজনের শেষে ঘরে ফিরে এসে পেদ্রোকে বললাম “সিনিয়র পেদ্রো আপনাকে সব সময় সবচেয়ে বেকওয়ার্ড লোকের সংগে মেলামেশা করতে হবে। তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে আপনার সর্বপ্রথম কর্ত্তব্য। কখনও তাদের সংগ পরিত্যাগ করবেন না। যেদিনই আপনি তাদের সংগ পরিত্যাগ করে নরম পন্থী মধ্যবিত্তদের সংগে মেলামেশা করবেন সেদিন থেকেই বুঝবেন আপনার অধঃপতন আরম্ভ হয়েছে। মনে রাখবেন আপনি ইণ্টারন্যাসনেলিজম হতে বিচ্যুত হয়ে ন্যাসনেলিজমের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। নিগ্রোদের পক্ষে ন্য্যাসনেলিজম্ গ্রহণ করা মারাত্মক হবে।”