বের হয়ে কোথাও জল না পেয়ে একটু হতাশ হলাম। কত মাইল পথ এসেছি তা জানবার উপায় ছিল না। আরও তিন চারদিন যদি পথ চলতে হয় তবে জল পিপাসা নিয়েই পথ চলতে হবে। ঠিক করলাম যে জলটুকু আছে তা দিয়েই আজ চালিয়ে দেব এবং কাল সকাল থেকেই জলের সন্ধান করব।
পরিষ্কার স্থানটাতে কম্বলখানা বিছিয়ে বসলাম। সঙ্গের খাবার খেলাম, তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে নানা কথা ভাবতে লাগলাম। সকল কথাই একে একে লোপ পেয়ে জলের চিন্তা প্রবল হয়ে উঠল। যতই জলের চিন্তা করতে ছিলাম ততই জলের পিপাসা বেড়ে চলল। আমি কিন্তু জল খেলাম না। স্থানত্যাগ করে জলের সন্ধানে বেড়িয়ে পড়লাম। সামনে পেছনে অনেকক্ষণ জলের অনুসন্ধান করলাম। কোথাও জল না পেয়ে অবশেষে স্থান ত্যাগ করা ভাল বিবেচনা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাব ভাবছি এমন সময় ব্যাটব্রিজের দিক হতে একখানা মোটর আসার শব্দ শুনে পথের পাশে দাঁড়ালাম। মোটর আসা মাত্র তাদের থামতে বলায় যাত্রীরা থামল। তাদের কাছে জল চাইলাম। বিনা বাক্যব্যয়ে এক টিন জল আমাকে দিয়ে বলল “আর কিছু চাই?” আর কিছু চাই না স্যার, জানতে চাই এখান থেকে ব্যটব্রিজ আর কতদূর? একজন যাত্রী বললে এখান থেকে ব্যাটব্রিজ অন্তত সত্তর মাইল হবে। আরও দশ মাইল যদি দয়া করে এগিয়ে যান তবে বাঁদিকে একটি ছোট পথ পাবেন, সেই পথে দু’ মাইল অগ্রসর হলেই একটি নিগ্রো গ্রাম। কিছু বলবার পূর্বেই যাত্রীরা আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিল। এগিয়ে যাবার ক্ষমতা আমার ছিল না। ঠিক করলাম এখানেই আজ রাত কাটাতে হবে। জলের টিন কাছে এনে রাখলাম। চিন্তার উপশম হল। আরাম করে শোবার চেষ্টা করলাম।