বনে জংগলে একরাত কাটানো শুনতে যেমন সহজ কাজে তেমন সহজ নয়। সন্ধ্যা হবার পূর্ব হতেই মনে হতাশ ভাবের সৃষ্টি হল। হতাশ ভাবকে লোপ করার জন্য আগুন জ্বালাতে ব্যস্ত হলাম। আগুন ধূ ধূ করে জ্বলে উঠল। কাঁচা ডালপালা আগুনে দেওয়ায় বেশ জমকালো ধোঁয়া হল। মনের হতাশ ভাব কেটে গেল। ডায়রী খুলে লিখতে বসলাম। লেখার বিষয় হ’ল বনে জংগলে এ জীবনে কয়টি স্থানে একাকী রাত্রি কাটিয়েছি। ১৯৩১ খৃষ্টাব্দ হতে আমার ভ্রমণ আরম্ভ হয়। চীন দেশ ভ্রমণের ডায়রী আমার সংগে ছিল না। তবুও যতটুকু মনে আসছিল ততটুকু লিখে মনটা যখন ক্লান্ত হল তখন ইচ্ছা হল শুয়ে থাকি কিন্তু শুইবার পূর্বে অন্তত কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালানো চাই। দশ হাত দূরে কাঠ সাজিয়ে একই সংগে কাঠের স্তূপে আগুন দিলাম। আগুন যখন ধূ ধূ করে জ্বলে উঠল তখন মনেও বেশ স্ফুর্তি হল। অবসাদ চলে গেল, ইচ্ছা হল আরও একটু হাটি। হাটবার স্থান বেশি দূরে নয়, আগুনের কাছেই। আগুন ও জলই আমার একমাত্র উপকারী বন্ধু। চারদিকে আগুন দেখতে চাই। দিনের আলো নিবে গেছে। বনের অন্ধকার এবং আকাশের অন্ধকার পুঞ্জিভূত হয়ে চারিদিক অন্ধকার করে ফেলেছে। আগুন, অন্ধকার, মাটি, জংগল সবই বেশ ভাল লাগছিল। ভাল লাগার কারণ ছিল। একেই গভীর জংগল তারই মাঝে রাত কাটাতে হবে। দুঃখ হচ্ছিল না, কারণ এখানে কেউ আমাকে হিংসা বা ঘৃণা করছে না। কিন্তু আগামীকাল যখন সুন্দর শহর দেখব, শহরে ভাল ভাল হোটেল দেখব, খাদ্যদ্রব্য দোকানে দেখতে পাব তার কিছুই ভোগ করতে পারব না, “কালার বার” আমার কাছ হতে সবই সড়িয়ে নেবে। হিংসা ঘৃণা আমার চারিদিকে হাঁ করে দাঁড়াবে।
পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৪৩
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩৯
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন