বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৪৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১৪০

 নানা চিন্তার মাঝে আবার যখন অবসাদ এল তখন কি চিন্তা করে হঠাৎ শুয়ে পড়লাম। যখন ঘুম ভাংল তখন চেয়ে দেখি ভোর হয়ে গেছে। বনের পাখী ডাকতে আরম্ভ করেছে। হিংস্রজীব জংগলে আশ্রয় নিয়েছে। নব চেতনার নব শক্তি পেয়ে আবার পথ ধরে চললাম। পূর্বেই বলেছি নিকটেই গ্রাম পাব, কিন্তু দশ মাইল চলার পর কোথাও গ্রাম পেলাম না। পেলাম দুটো নিগ্রো। দেখলেই নরঘাতক বলে মনে হয়। যারা বঙ্কিমচন্দ্রের কপালকুণ্ডলা পড়েছেন তারা বিশেষ করে জানেন আমাদের দেশেও এক শ্রেণীর লোক ছিল যারা নরবলি দিয়ে তাদের দেবতাকে প্রসন্ন করত, এই লোক দুটোকে সেই শ্রেণীরই বলে মনে হল। এদের পোষাক জংলী লোকের মত ছিল না। এদেশ পোষাক ছিল স্থানীয় নিগ্রো ডাক্তারদের মত। নিগ্রো ডাক্তারগণ মন্ত্র পড়ে দেবতাকে সন্তুষ্ট ক’রে রোগের উপশম করে। এদের যদিও নিগ্রো ডাক্তারের পোষাক ছিল তবুও সন্দেহ হচ্ছিল। আমার জানা ছিল এই ধরণের লোক শ্বেতকায়দের ধরে নিয়ে কখনও তাদের দেবতার কাছে বলি দেয় না। নিগ্রোদের মতে আমিও শ্বেতকায়। পশুর আকৃতিবিশিষ্ট মানুষের পাশ দিয়ে যখন যাচ্ছিলাম তখন হঠাৎ মনে হল এদের সংগে একটু কথা বলে গেলে ভাল হবে। সবল মনে ইংলিশ কায়দায় জিজ্ঞাসা করলাম—

 এই তোরা এখানে কি কর্‌ছিস?

 কিছু না বানা (মিষ্টার)। আমরা পথ হারিয়েছি।

 মিথ্যা কথা বল্‌ছিস্, বল্ কোথায় যাবি?

 আর কোন কথা না বলে দানবতুল্য দু’টা লোক এক পা এক পা করে পেছন দিকে হটে গেল। এদের কাপুরুষতা দেখে অবাক হলাম।