তোমার কাছে পাউণ্ড শিলিং আছে সে ধারণা আমার ছিল না, যদি জানতাম তুমিই খাদ্যের দাম দেবে তবে আরও বেশি খাদ্য নিয়ে আসতাম। খাদ্য সমাপান্তে বৃদ্ধ আমাকে সংগে নিয়ে ইউরোপীয়ানদের বাড়ীতে গেল। ইউরোপীয়ান ভদ্রভাবেই বসতে দিয়ে আমার পরিচয় জিজ্ঞাসা করল।
আমার পরিচয় পেয়ে ইউরোপীয়ান বলল “দেখে সুখী হলাম, তুমি ইণ্ডিয়ান হয়েও পৃথিবী ভ্রমণে বের হয়েছ। আমার ধারণা ছিল ইণ্ডিয়ানরা শুধু উচ্চাঙ্গের বুলি বলতেই জানে।
কিসে তোমার এরূপ ধারণা হল?
কিসে আমার সে ধারণা হল জানবার পূর্বে অনুমান কর ত আমার বয়স কত হতে পারে?
কোকটি দীর্ঘাকৃতি, চুল প্রায় সবগুলিই সাদা। দাঁত বেশ শক্ত। হাতের পেশীগুলি বেশ মজবুত। মনে হল বৃদ্ধের বয়স ষাটের উপরে এবং পয়ষট্টির নীচে। যা ধারণা করেছিলাম তাই বললাম।
বৃদ্ধ হেসে বলল ভুল করেছ বন্ধু। আমার বয়স বর্তমানে সত্তর পেরিয়েছে। বুয়র যুদ্ধের সময় আমি প্রাপ্তবয়স্ক ছিলাম। আমার কয়েকটি ছেলেমেয়ে ছিল। আমরা এখানেই বাস করতাম। কেনেডিয়ান, অষ্ট্রেলিয়ান এবং নিউজিল্যাণ্ডবাসী সেপাইরা আমাদের গ্রাম আক্রমণ করার পর আমরা পালিয়ে গিয়েছিলাম। সভ্য দেশের সেপাইরা আমাদের ছেলেমেয়ে এবং স্ত্রীলোকদের প্রতি কোন অত্যাচার করেনি, কিন্তু তোমাদের দেশের সেপাই যারা হস্পিটাল কোরের আর্দালী হয়ে এদেশে এসেছিল তারাই আমাদের নির্বংশ করে রেখে গেছে।
লাফিয়ে উঠলাম এবং বললাম “তাই নাকি?”
বৃদ্ধের কথা শুনে বড়ই দুঃখ হল এবং তাকে প্রবোধ দিলাম।