বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৪৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪৩
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

 বৃদ্ধ আরও দুঃখিত হল এবং বলল আমাদের নির্বংশ করে গিয়েছে, এরা কত বর্ব্বর।

 এখন থেকে যদি আমার কথাগুলি প্রণিধান করে অনুভব কর তবে বুঝতে পারবে পূজিবাদীরা কতদূর বর্বর। কেন তুমি ভারতবাসীদের প্রতি অনর্থক হিংসাত্মক ক্রোধ পোষণ করছ? ভারতীয় সেপাই যদি অর্থের দাস না হত তবে এমন হীনতম কাজ করত না। তুমি আমার নির্দেশ মত বই কিন, দেখবে আমি যা বলছি তা বর্ণে বর্ণে সত্য।

 বৃদ্ধ অনেকক্ষণ চুপ করে থাকল তারপর বলল “কাল সকালেই আমি জোহান্সবার্গ যাব। সেখান থেকে প্রচুর বই কিনে আনব। বল ত তিন চার মাস পর কোথায় তোমার কাছে পত্র লিখতে পারি?

 কেপটাউনের একটি ব্যাংকের ঠিকানা দিয়ে বললাম, এই ব্যাংকের ঠিকানায় পত্র লিখলে পত্র নিশ্চয়ই পাব। শ্বেতকায় বৃদ্ধের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিগ্রো বৃদ্ধের হাত ধরে চলে এলাম।

 এর পরদিন বিকালে যে নিগ্রো গ্রামে পৌঁছলাম সেই গ্রামে অন্য আর একজন শ্বেতকায়ের সংগে দেখা হল।

 সে বলল, “মশিয়ে যদি দরকার মনে করেন তবে আগামীকল্য সকালে আমি এখান থেকে রওয়ানা হব, এবং আমি কিছুটা জংগল দেখিয়ে আনতে পারব।

 আগামীকল্য সকালে আমি গ্রাম ত্যাগ করতে পারব না। পরশু সকালে আপনার সংগে যেতে পারি।

 বুয়র লোকটি কি ভেবে চলে গেল। পরের দিন তার সংগে দেখা হয় নাই। রাত্রে যখন আমি নিগ্রো হাউসে বিশ্রাম করছিলাম তখন সে আমার ঘরে আসল এবং বলল “কাল সকালে যাবেন ত?”

 নিশ্চয়ই যাব বন্ধু, বস।