লোকটি বসল। তার চোখের তারা দুটা জ্বলছিল। পকেটের পিস্তলটা এত ঝুঁকে পড়েছিল যে বার হতেই আমার চোখে পড়ছিল। তার মুখের পাইপ হতে দুর্গন্ধ আসছিল। পায়ের জুতা এবং মোজা বোধহয় অনেকদিন বদলায় নাই, তা হতেও ভয়ানক দুর্গন্ধ আসছিল। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম “আমাকে সংগে নেবার দরকার কি?”
হ্যাঁ, তাই বলতে আসছি। মানুষের অভাব থাকে আমার নাই। আমার ঘরে মদের অভাব নাই, অর্থের অভাব নাই, নারীর অভাব নাই। আমি বিশেষ লেখাপড়া করি নাই বলে বিদেশে যাবারও ইচ্ছা নাই। তবে বিদেশীকে পেলে তার কাছ থেকে নূতন কথা শুনতে ভালবানি। এই গ্রামে আমরা উভয়ে সমভাবে বসতে পারব না, একসংগে খেতে পারব না। সেজন্য যেখানে গ্রাম নাই, অন্য মানুষ নাই, সেখানে যেয়ে তাঁবু খাটাব, উত্তম খাদ্য খাব এবং গল্প করব। এই ইচ্ছা নিয়েই এই অনুরোধ। লোকটার কথা শুনে যেমন বিস্মিত হলাম তেমনি তার কাছ থেকে কথা শুনারও প্রবৃত্তি হল। তার সংগে যেতে রাজি হলাম।
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই দেখি একখানা মস্তবড় লরী দাঁড়িয়ে আছে। চট্পট করে আমার বাইসিকেলখানা বের করে দিলাম। তারপর নিজে এসে তারই পাশের সিটে বসলাম। আমাদের উভয়ের মধ্যে মাত্র দুটি কথা হয়েছিল। আমরা উভয়েই উভরকে “সুপ্রভাত” জানিয়েছিলাম। পনের মাইল চলে যাবার পর লরী মোড় ঘুরিয়ে বড়রাস্তা ছেড়ে অরণ্য পথে প্রবেশ করল, তারপরও পাঁচ মাইল যাবার পর গাড়ী থামাল। সংগের নিগ্রোগুলি আমাদের জন্য ক’খানা চেয়ার এবং একটি টেবিল নামিয়ে দিয়ে চা করে নিয়ে এল। কাছেই সুন্দর একটি জলপ্রপাত। সেখানে গিয়ে স্নান করে এলাম। স্নান করে দেখি খাবার প্রস্তুত। আমরা খেতে বসলাম।