ব্যরা ছেড়ে যাবার পূর্বে সাইকেলটি সারাতে এক নিগ্রোর কাছে গিয়েছিলাম। নিগ্রো মজুরের কর্মতৎপরতা দেখে বুঝতে পেরেছিলাম তার ধৈর্য্য আছে। কাজটি যাতে সুচারুরূপে সম্পন্ন হয় সেদিকেও লক্ষ্য ছিল। উপযুক্ত শিক্ষা পেলে লোকটি কর্মক্ষেত্রে কারো থেকে কম হত না। সাইকেলটি সারিয়ে দিয়ে যখন তার মজুরীর জন্য আমার কাছে হাত পাতল তখন তাকে আমি ইউরোপীয়ান্ মজুরদের সাধারণত যা দিয়ে অভ্যাস তাই দিলাম। অত্যধিক মজুরী পেয়ে সে আমার দিকে চেয়ে রইল। তার বোকামিপূর্ণ চাহনি দেখে বললাম “কাজের দিক দিয়ে যদি দেখা যায় এক জন নিগ্রো ইউরোপীয়ানদের মত কাজ করেছ, তবে তাকে ইউরোপীয়ানদের মতই মজুরী দেওয়া কর্তব্য। তোমার কাজও ইউরোপীয়ান্দের মত হয়েছে সেজন্য তোমাকে ইউরোপীয়ানদের মতই মজুরী দিয়েছি। আমার কথা নিগ্রোটী যেন কিছুই বুঝতে পারেনি সেরূপ মুখভঙ্গী করল। এদের ধারনা এরা যত ভাল কাজই করুক না কেন, কোন মতেই ইউরোপীয়ানদের মত মজুরী পাবার অধিকার নেই। এই হীন ভাবটি পর্তুগীজ পূর্ব-আফ্রিকার প্রত্যেক নিগ্রোর মনে জন্মিয়ে দেওয়া হয়েছে। পর্তুগীজ কেরাণী, ব্যবসায়ী, এমন কি পর্তুগীজ মজুররা পর্য্যন্ত নিগ্রোদের মধ্যে এই চিন্তাধারা প্রচার করার জন্য সম্পূর্ণরূপে দায়ী। ভারতবাসী সেই ভাবধারা আরও যাতে বৃদ্ধি পায় সেজন্য আগ্রহশীল, কিন্তু এই আগ্রহশীলতার পরিণাম ভয়াবহ।
সেদিনই বিকালবেলা পেদ্রোর সংগে সাক্ষাৎ হয়েছিল। আগামী কল্য স্থান ত্যাগ করব একথা তাকে জানালাম। চলে যাব শুনে তিনি দুঃখিত হলেন। তাঁকে বুঝিয়ে বললাম “আমার কাজই হল বন্ধুত্ব স্থাপন করে সেই বন্ধুত্ব কয়েক দিনের জন্য বজায় রাখা এবং দরকার অনুযায়ী