বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৫০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১৪৬

 আচ্ছা ভেবে দেখব, বলেই লোকটা জংগলের ভেতর প্রবেশ করল। আমি একখানা কম্বল বিছিয়ে শুয়ে রইলাম। লোকটার চাল-চলন দেখে মনে হল সে শান্তিতে নেই। আমার কথায় তার মন উঠছে না। সে জানতে চায়, অথচ যা জেনেছে তা গ্রহণ করতে পারছে না। সেজন্যই সে আমার কাছে বসতে পারছিল না।

 সংস্কার বড় বালাই। ছোটবেলা হতে শুনে আসছে নিগ্রোরা মানুষ নয়, এরা এক জাতীয় বানর বিশেষ, আজ কি করে সে ওদের মানুষ বলে স্বীকার করতে পারে? তারপর শিক্ষার বড়ই অভাব। যে সকল পুস্তকে জ্ঞান থাকে দক্ষিণ আফ্রিকার মজুর শ্রেণীর লোক পড়তে রাজি নয়। আমাদের দেশের লোক যেমন প্রথম ভাগ আর দ্বিতীয় ভাগ পড়েই রামায়ণ মহাভারত পড়তে পারে এরাও তদ্রূপ। একটু লেখাপড়া শিখেই নাটক, নভেল এবং দৈনিক পত্র পড়ে তৃপ্ত হয়।

 লোকটা যখন ফিরে এল তখন আমি তাকে বললাম “আমার কথা আপনার ভাল লাগবে না। আপনার শিক্ষা অন্য ধরণের। ছোটবেলা হতে আপনি যে-সকল ধারণা মনে পোষণ করে আসছেন তা সহজে পরিত্যাগ করতে পারবেন না। আমার কথা শুনে কতকক্ষণ কি চিন্তা করল তারপর বলল “আজ আমরা এখানেই থাকব, আগামীকল্য সকাল বেলা আপনাকে বড় পথে দিয়ে আসব। আমি তাতে রাজি হলাম এবং নানা গল্পগুজবের ভেতর দিয়ে বৈকাল বেলা পর্যন্ত কাটিয়ে দিলাম। সে আমাকে বারংবার নানারূপ মদ খেতে দিচ্ছিল কিন্তু প্রত্যেকবারই আমি তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করছিলাম। সন্ধ্যার পূর্বে তাকে বললাম “মদ খাওয়া আমার সহ্য হয় না, সেজন্যই আমি মদ খাই না নতুবা খেতাম। দ্বিতীয় কথা হল আমি পর্যটক। আমাকে অনেক দেশ দেখতে হবে, আমার জীবনের উদ্দেশ্য আছে। উদ্দেশ্যবিহীনরাই মদ খেতে ও শুয়ে