বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৫১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪৭
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

থাকতে ভালবাসে। বলুন ত আপনার জীবনের কোনও উদ্দেশ্য আছে কি না? লোকটা আমার প্রতি অনেকক্ষণ চেয়ে থেকে বলল “কই তেমন কিছু নেই ত। আমি বললাম “এখানেই আমাতে ও আপনাতে পার্থক্য।”

 রাত্রে খাওয়ার পর আমরা উভয়েই দু’খানা ক্যাম্পখাটে শুয়ে ছিলাম। লোকটি মুখ ফিরিয়ে বলল “বলুন ত আমার জীবনের কি মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়া ভাল হবে?

 এখন ভাল কথা বলেছেন। যাদের আপনি মানুষ বলে স্বীকার করেন না, তাদের আপনি মানুষ বলে স্বীকার করে এদেরই নৈতিক এবং আর্থিক উন্নতির চেষ্টা করুন। আজ আমরা যেস্থানে আকাশের নীচে শুয়ে আছি এখানেই একখানা নিগ্রো গ্রাম তৈরী করুন। দেখবেন এতে জীবনে বিমল আনন্দ পাবেন। আর কতদিন উদ্দেশ্যহীন জীবন কাটাবেন?

 লোকটার চেতনা এসেছিল, সে বলছিল আমার কথামত কাজ করবে। পরেরদিন যখন সে আমাকে বিদায় দিয়েছিল তখন প্রতিজ্ঞা করল “উপরে আকাশ এবং পায়ের নীচে মাটি এ দু’য়ের নামে শপথ করে বলছি আমি নিগ্রোদের মানুষ বলে মেনে নেব এবং এদের উন্নতি করতে চেষ্টা করব। মানুষের মনে পরিবর্তন আসে দুই রকমে। জ্ঞানে এবং ভাবপ্রবণতায়। লোকটা ছিল ভাবপ্রবণ, সেজন্যই তার পরিবর্তন তাড়াতাড়ি এসেছিল।

 লোকটার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জংলী পথেই রওয়ানা হলাম, জানতাম নিকটেই বড় রাস্তা। বড় রাস্তায় চলতে ভাল লাগছিল না বলে জংলী পথ ধরে অগ্রসর হচ্ছিলাম। পরের দিন সকাল বেলা একটি গ্রামে পৌঁছি। গ্রামটি আমার ভাল লাগছিল। পরিশ্রম আর