বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১৪৮

ভাল লাগছিল না। সেজন্য স্থির করছিলাম কয়েক দিন এই নিগ্রো গ্রামে থেকে তাদের আচার ব্যবহার ও রীতি-নীতি ভাল করে দেখে নেব। বাস্তবিক পক্ষে একটি গ্রামে কয়েকদিন না থাকলে সকল বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় না। নিগ্রোদের প্রত্যেক গ্রামেই আমাদের দেশের মত একজন করে মোড়ল থাকে। কিন্তু মোড়ল কোথায় থাকে ঠিক করতে পারছিলাম না। বিশ্রামার্থ একটি ঘরের বাড়ান্দায় বসলাম। এদিকে জিগার্স (ডুডু) পোকা বড়ই অত্যাচার করে, আমার কিন্তু ডুডু পোকার ভয় ছিল না। নিগ্রোদের সংগে ভালবাসা থাকার জন্য তারাই আমার হাত পা হতে ডুডু পোকা বের করে দিত। তা বলে অনেক্ষণ মাটিতে বসা অন্যায় হবে ভেবে উঠে দাড়ালাম এবং গ্রামে ক’খানা ঘর আছে গণনা করলাম। হিসেব করে দেখলাম গ্রামে একুশখানা ঘর। একজন নিগ্রোকে জিজ্ঞাসা করলাম “এই তোদের গ্রামে ক’খানা ঘর?” নিগ্রো বলল “One & twenty only, bana.” এর মানে হল এককুড়ি একখানা ঘর। লোকটি ভাল ইংরাজী বলছে অথচ গুণবার সময় একুশ না বলে এককুড়ি এক বল্‌ল। আমাদের দেশের গ্রাম্য লোকের কথা মনে পড়ল। আমাদের গ্রামেও অশিক্ষিতরা এককুড়ি একই বলে। কুড়ি কুড়ি করে গণতি করে পূর্বে পৃথিবীর সর্বত্রই প্রচলিত ছিল। লানুষের জ্ঞানের প্রসারণের সংগে অঙ্ক বিদ্যাও উন্নতি হতে থাকে।

 ভারতবর্ষের সর্বত্র পঞ্চায়েত মহাশয়গণের বাড়ী বেশ সুন্দর এবং যারাই পঞ্চায়েতের কর্ণধার হন তাদের বেশ ভাল অবস্থাই থাকে। ভারতীয় প্রথামতে গ্রামের হেড্‌ম্যানের ঘরটা খোঁজার ভার নিজের চোখের উপর দিয়েছিলাম। চোখ কিন্তু কোনমতেই মোড়লের ঘর খুঁজে বের করতে পারল না, অবশেষে জিহ্বার সাহায্য নিলাম এবং