বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৫৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫১
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

দাঁড়াল এবং লাফ দিয়ে নেচে চক্কর দিল। তারপর আবার চা খেতে লাগল, এটাই হল এদের প্রশংসা করার একমাত্র উপায়। চা খাওয়া হয়ে গেলে কটের দিকে তাকিয়ে বললাম, “এখন শোন কটে, তুমি দুধ, চিনি এবং কাফি নিয়ে আসবে। এক শিলিংএর সিগারেটও আনবে। সিগারেট রডেসিয়ার হওয়া চাই। তোমাদের গ্রাম্য দোকান কোথায়?

 কটে একটু চিন্তা করে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলল, অতি কাছেই বানা, যেতে আসতে দশ মিনিট এবং সওদা কিনতে পাঁচ মিনিট।”

 কটে চলে গেলে ঘরের একদিক কতকগুলি খড়ের সাহায্যে পরিষ্কার করে তাতেই বিছানা বিছিয়ে ফেললাম। সঙ্গের মগ্ জলের কেতলী এবং অন্যান্য দরকারী জিনিস একত্র করে রেখে দিয়ে ডায়েরী লিখতে আরম্ভ করলাম। ডায়েরী অনেকদিন লেখা হয় নাই সেজন্য বেশ মাথা ঘামাতে হল। সর্বপ্রথম চিন্তা করে বের করতে হল সেদিন কি বার ছিল, তারপর তারিখ। ডায়েরী লেখা হলে নিগ্রোর ঘরের মধ্যে কি কি আছে এবং ঘরের অবয়ব কি রকমের তাই লক্ষ্য করলাম। কটের ঘর একটি গোল মঠ বিশেগ। ঘরের উপরের দিকটা মাটির দেওয়াল, উপরে খড়ের ছাউনি, বেশ সুন্দর ভাবে উঠেছে। যেন একটি শিব মন্দির। শিব মন্দিরের ভিটি বা চত্তর থাকে, এই লোকটির ঘরে শুধু তাহাই ছিল না। সামনের পথের সঙ্গে সমতা বজায় রেখেছিল।

 রান্নার একটি বড় মাটির হাড়ী ও জলের কলসী। কলসীর কানা নাই, নতুবা আমাদের দেশের মাটির কলসীর মতই। আর একটি ছোট্ট হাড়ী। তারই পাশে একখানা ছোট কাঠের হাতা। হাতাটি বেশ বড় এবং বেশ শক্ত কাঠ দিয়ে গড়া। জল খাবার জন্য ছোট্ট একটা গিল্‌টী করা জাপানী গ্লাস। এর পাশেই তিনটি বড় পাথর। তিনটা পাথরই