উনুনের কাজে ব্যবহৃত হয়। ঘরের চালাতে একটা রশি বাঁধা ছিল। তাতে দুটা ময়লা হাফপ্যাণ্ট, একটা লম্বা সার্ট, আর একখানা নিগ্রো শাড়ী ঝুলছিল। শাড়ীখানা তিন হাত লম্বা এবং দেড় হাত চওড়া! নিগ্রো রমণীরা অনেক সময়ই তাই কোমড়ে বাঁধে। যারা ইউরোপীয় ধরণে গাউন পরে তারা এসব শাড়ী রুমালের মত মাথায় জড়িয়ে রাখে। ঘরের ভেতরের সকল জিনিস দেখে তারপর ছেলেমেয়েদের দেখলাম তারা বাইরে বসে আছে। বাহির হতে মাছি এসে এদের হাতের উপর বসছে। মাছির দংশন তিনটি ছেলে অম্লানবদনে সহ্য করছে। আমি তাদের পাশে দাঁড়িয়ে দেখতে ছিলাম এরা কতক্ষণ মাছির অত্যাচার সহ্য করতে পারে। ক্রমে ক্রমে ছেলে তিনটি মাটিতে শুয়ে পড়ল এবং গভীর নিদ্রায় নিদ্রিত হল। এদের অবস্থা দেখে মনে হল মাছির দংশন কেন, যে-কোন হুল ফুটানো যন্ত্রণাদায়ক মক্ষিকার দংশন পর্যন্ত এরা সহ্য করতে পারবে। কটের তিনটি শিশুই প্রায় মর মর অবস্থায় পৌঁছে ছিল। তাদের শরীরে রক্ত ছিল না, কি রোগ হয়েছে কেউ জানবার চেষ্টা করছিল না। মরলে মরল এই ধরণাই কটের স্ত্রী পোষন করে।
পাড়াগাঁয়ের নিগ্রোরা এখনও বেশি কাপড় ব্যবহার করা পছন্দ করে না। পুরুষরা নেংটা থাকতেই ভালবাসে। বর্তমানে পাড়াগায়ের নিগ্রোদের কিছুটা সভ্যতা প্রবেশ করেছে সেজন্য স্ত্রী-পুরুষ সকলেই ঘরে এসে নেংটী ব্যবহার করে। প্রত্যেকের কোমড়ে একটি করে সূতার রশি বাঁধা থাকে। সেই রশির সাহায্যেই নেংটির ব্যবহার হয়। আমাদের দেশেও নেংটির ব্যবহার আছে, কিন্তু এখন প্রায় লোপ পেতে বসেছে।
বিকালের দিকে পরিবার শুদ্ধ সকলে নিকটস্থ ছোট নদীতে স্নানের জন্য বের হল। আমিও সংগে চললাম। নদী-তীরে গিয়ে দেখি