অনেকেই স্নান করতে আসছে। সকলেই উলঙ্গ হয়ে ঝুপঝাপ করে নদীতে ঝাঁপ দিচ্ছে। ছেলেমেয়েদের স্নান করতে কত না আনন্দ। আমি কিন্তু স্নানের দিকে তত আগ্রহ দেখালাম না। আমার যথাসর্বস্ব ঘরে রয়েছিল, অথচ ঘর হতে আসার সময় দরজা বন্ধ করে আসা হয়নি। কটেকে চিৎকার করে বললাম, “এই দরজা বন্ধ করে আসিস নাই, যদি অন্য কেউ সব নিয়ে চলে যায় তবে মহাবিপদে পড়তে হবে।” জল থেকেই কটে উত্তর দিল, “কুছ, পরওয়া নেই, সব ঠিক থাকবে। মন যদিও চঞ্চল ছিল তবুও স্নানে নামতে হল। দুটা ডুব দিয়ে আর বসে থাকলাম না, সোজা গ্রামে চলে এলাম।
গ্রামে এসে দেখি, কতকগুলি লোক কাজ হতে ফিরে এসেছে এবং অনেকেই আমার সাইকেল দেখছে। কাছেই সিগারেটের বাক্স ছিল কেউ তাতে হাত দেয় নাই। আমাকে দেখা মাত্র জনতা আপন আপন বাড়ীতে চলে গেল। আমিও নিশ্চিন্ত মনে বস্ত্র পরিবর্তন করলাম।
চারটার পূর্বেই আমাদের খাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছিল। কটের স্ত্রী তাদের জন্য ভুট্টার ছাতুর লেই তৈরী করেছিল। লবণ, মাংস এবং সব্জী সবই লেইয়ের মধ্যে দিয়েছিল। আমার জন্য পৃথক রান্না হয়েছিল। এদের লেই খেয়ে আমি কোনদিনই তৃপ্তি পাইনি, সেজন্য আজও তাদের লেই খেলাম না!
খাবার পর যখন আমি একটা বই পড়ছিলাম তখন কটে বলল যে, তার স্ত্রীর শরীর বড়ই দুর্বল। কটের স্ত্রীকে দেখে কিন্তু দুর্বল বলে মনে হচ্ছিল না। সে বলল তাদের দুর্বলতা মুখে প্রকাশ পায় না, পিঠে প্রকাশ পায়। লক্ষ্য করে দেখলাম কটের স্ত্রীর ডানার হাড় দুখানা ভেসে উঠেছে এবং পিঠ একেবারে শুকিয়ে গেছে। তার স্ত্রীর অবস্থা দেখে মনে হল সে ঠিকই দুর্বল হয়েছে কিন্তু মুখ দেখে সেরূপ কিছুই