মনে হল না। কটেকে বললাম, তোমার স্ত্রীর শরীর কি করে ভাল হবে আমি বলতে পারব না। আমি ডাক্তার নই, মিশনারী ডাক্তার যখন আসেন তখন তার কাছ থেকে ঔষধ নিতে পার। কটে বড় দুঃখ করে বলল, যতদিন সে খৃষ্টান হয় নাই ততদিন তাকে মিশনারী ডাক্তার অনেক কিছু দিয়েছেন। যখন থেকে খৃষ্টান হয়েছে তখন থেকে সকল সাহায্য বন্ধ হয়ে গেছে। কথাটা কিন্তু আমার বিশ্বাস হল না, সেজন্য শুক্রবারে মিশনারী ডাক্তার আসার পরই কটের স্ত্রীকে পরীক্ষা করতে বললাম। মিশনারী ডাক্তার আমাকে দেখে অবাক হলেন কিন্তু পরিচয় পেয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে কটের স্ত্রীকে ঔষধ দিয়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করলেন। কটের স্ত্রীর জন্য ঔষধ এবং পথ্যের কেন ব্যবস্থা করেছিলেন বেশ ভাল করেই বুঝতে পেরেছিলাম। আমি না থাকলে কটের স্ত্রী কিছুই পেত না। আরও অনেক অসুস্থ নারী আমার চোখে পরছিল, তাদের জন্য কিন্তু সেরূপ কিছুই করেন নাই।
বিকেল বেলা গ্রামের যুবক যুবতীরা গ্রাম থেকে একটু দূরে গিয়ে নাচতে আরম্ভ করল। তাদের নাচ দেখার জন্য আমি এবং কটে উপস্থিত ছিলাম। তাদের নৃত্যের সংগে অনেক ভারতীয় নৃত্যের সম্বন্ধ রয়েছে। বাস্তবিকপক্ষে তাদের নৃত্য দেখে সুখী হয়েছিলাম। অতি পুরাতনের সংগে ভারতীর নৃত্যের যে সম্বন্ধ রয়েছে সেই ভাবটিই নিগ্রোদের নৃত্যে পরিস্ফুট হয়ে উঠেছিল। অবশ্য ইউরোপীয়ানরা অনেকেই নিগ্রো নৃত্য দেখে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। কিন্তু নিগ্রো নৃত্যে যতটুকু পবিত্রতা আছে ইউরোপীয়ান নৃত্যে ততটুকু পরিত্রতা আছে বলে মনে হয় না। নিগ্রোদের অনেক মানসিক বৃত্তি এখনও সুপ্ত, আর ইউরোপীয়ানদের মানসিক বৃত্তিগুলি পরিস্ফুট সেজন্যই তাদের মুখ ফিরিয়ে রাখতে হয়।