যখন তখন স্থান ত্যাগ করা। এই নিয়মটিতে আমি অভ্যস্ত ছিলাম কিন্তু পেদ্রো আমার মত পথিক ছিলেন না, সেজন্যই তিনি বন্ধুসংগ পরিত্যাগে কাতর হয়েছিলেন। পরের দিন সকালে পেদ্রো এবং লস্মনকে পেছনে রেখে ইম্তালীর দিকে রওয়ানা হলাম। ইম্তালী পর্তুগীজ পূর্ব-আফ্রিকার বাইরে দক্ষিণ রডেসিয়ায় অবস্থিত। ইম্তালী সি-লেভেল হতে অন্তত তিন হাজার ফুট উচ্চে অবস্থিত সেজন্য পথ সুন্দর নয় বন্ধুর। পথ চলা কঠিন। শহর থেকে মাত্র আধ মাইল পথ পরিষ্কার তারপরই গ্রেভেল দেওয়া পথ, সাইকেল নীচের দিকে আপনি নেমে আসে। এরূপ পথে চলতে হলে শারীরিক শক্তির যত দরকার হয় মনের শক্তির দরকার হয়ে তার চাইতে আরও বেশি। আমার মনের শক্তি ছিল সেজন্যই চলতে পারছিলাম। কিন্তু বেশি দিন পথ চলা আমার পক্ষে সম্ভব হয় নাই।
কয়েক দিন পথ চলার পর একদিন একটি শিক্ষিত নিগ্রোর সংগে দেখা হয়। নিগ্রোটি উপযাচক হয়ে আমার সংগে কথা বলে। সে সর্বপ্রথমই আমার সাইকেলে লেখা দেখে আবাক হয় এবং বলে “বানা আপনার মত পরিশ্রমী ইণ্ডিয়ান এদেশে দেখি নাই, আপনি কিসের ব্যবসা করেন?”
ব্যবসা আমি করি না একজন পর্য্যটক মাত্র।
জবাব শুনে সে থমকে দাঁড়াল এবং সাইকেলটা ভাল করে দেখে বললে আপনার সংগে করমর্দন করব। তারপর বলতে লাগল যদি এ দেশের ইণ্ডিয়ানরা আপনার মত হত তবে আমাদের উন্নতির পথ খুলে যেত। এদেশের ইণ্ডিয়ানরা আমাদের সংগে করমর্দন করা দূরের কথা কাছেও ঘেসে না।
নিগ্রোর কথা শুনে দুঃখ হল এবং বললাম “বন্ধু এদেশে যত বিদেশী