বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫৭
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

 লোকটা তখন অনেকক্ষণ হাসল তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল তবে মশিয়ে (মহাশয়) বিদেশী?

 হাঁ মশাই “আমি সাইকেল করে দেশ বিদেশ ভ্রমণ করি।

 বিয়ে হয়েছে?

 না।

 আসুন আসুন, আপনার কাছ থেকে অনেক মজাদার সংবাদ শুনব। দরা করে খরগোসকে সিংহের বাচ্চা বলে আমাকে বিপদে ফেলবেন না এবং বিভ্রান্ত করবেন না।

 বাড়ীটার ভেতর যখন প্রবেশ করছিলাম তখন ইউরোপীয়ান লোকটি আমাকে জিজ্ঞাসা করল “বাড়ীটা দেখে কিরূপ মনে হচ্ছে?”

 পূর্বকালের কোনও ফিউডেল চীফের বাড়ী বলেই মনে হয়।

 আমার কথা শুনে লোকটা ফিরে দাঁড়াল। কতক্ষণ আমার দিকে চেয়ে রইল তারপর এগিয়ে চলল। তার গোঁফ দাড়ি কামানো ছিল না বলে আরও বিভৎস দেখাচ্ছিল। জুতা হতে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল, মোজা ছেড়া ছিল। চুল অনেকদিন হয় কাটেনি বলে মাথাটা বদখত দেখাচ্ছিল। চোখ দুটা ধূসর বর্ণের ছিল। যতই তার সংগে এগিয়ে চলছিলাম ততই মনে হচ্ছিল লোকটা নিশ্চয়ই খুনী, নতুবা এই জংগলে পরিত্যক্ত বাড়ীতে আশ্রয় নেবার কোনও দরকার ছিল না।

 বাড়ীটার ভেতরও স্থানে স্থানে আগাছা গজিয়ে ছিল। কতকক্ষণ যাবার পর আমরা একটি ঘরের সামনে আসলাম। ঘরের সামনে কয়েকখানা চেয়ার বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। ঘরটার দরজা খুলাই ছিল। ভেতরের দিকে চেয়ে দেখলাম অনেকগুলি বই ছড়িয়ে রয়েছে। লিখবার কালি কলমও আছে। পাশেই মস্ত বড় একটা ঘণ্টা! লোকটা ঘরে গিয়েই ঘণ্টা বাজাল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি নিগ্রো রমণী এল