বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৬৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫৯
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

দেখেই মনে হল এসব বিছানার নিগ্রোরা শোয়ে। বিছানাগুলি ছিল বেশ পরিষ্কার সেজন্য শোয়ে থাকতে ঘৃণা হল না। কতকক্ষণ বিশ্রামের পরই ভ্যানডার আমাকে ডাকলে এবং আমরা উভয়ে মিলে বাড়ীটার ভেতরই একটি ছোট্ট বাগানে বসলাম। সর্ব প্রথমই জন্‌ভ্যানডার আমার পরিচয় জানতে চাইলে। আমার পরিচয় পেয়ে ভ্যানডার একটু দুঃখিত হল। লোকটি কিন্তু উচিত বক্তা। কথা প্রসঙ্গে আমাকে বললে “বুয়র যুদ্ধের পূর্বে যে সকল গুজরাতী মুসলমান দক্ষিণ আফ্রিকাতে বসবাস করছিল তারা প্রকৃত পক্ষেই জেনারেল ক্রুগারকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছিল। জেনারেল ক্রুগারের কাছে তাদের পঞ্চাশ হাজার টুকরা সোনা পাওনা ছিল। সেই সোনা অসময়ে তারা চেয়ে বসে। জেনারেল ক্রুগার ভারতবাসীকে বুয়রদের সম-অধিকার দিতে চেয়ে ছিলেন এই সোনার বিনিময়ে কিন্তু ভারতবাসী রাজী হয় নাই। রাগ করে জেনারেল ক্রুগার ভারতধাসীর সোনা ফিরিয়ে দেন এবং জেনারেল ত্রুনজি এবং জেনারেল স্মাটকে বলেন “মনে রাখবেন জেনারেলগণ অসময়ে ইণ্ডিয়ানরা আমাদের প্রতারিত করল, সেজন্য এদের শাস্তি দিতে হবে। এরা প্রকৃত পক্ষেই অবুঝ লোক, যদি কোন দিন আমাদের সময় আসে তবে আমরা এদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেব এবং নিগ্রোদের মতই এদের প্রতি ব্যবহার করব। আপনি সে দেশেরই লোক। আপনার সংগে মন খুলে কথা বলতেও ভয় করে। যদিও আমরা বৃটিশের সংগে লড়াই করে ডমিনিয়ন ষ্টেটাশ পেয়েছি তবুও আমরা এখনও বৃটিশের প্রাধান্য হতে রেহাই পান নাই। আমাদের দেশের খনি হতে সোনা উঠায় বৃটিশ। সেই সোনার দর নির্দ্ধারণ করে বৃটিশ ব্যবসায়ী। এর পরেও যদি আমাদের কেউ স্বাধীন রাষ্ট্র বলে স্বীকার করে তবে তারা মূর্খ বই আর কিছুই নয়। আমরা হয়ত বৃটিশকে এদেশ হতে তাড়িয়ে দিতে পারতাম, কিন্তু ভারতীয়