বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬১
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

জন্য, সামান্য একটু লাভের খাতিরে ভারতবাসী তখন যা ইচ্ছা তাই করতে রাজি হত। আজ যদি ভারতবাসী সেরূপ কোন অন্যায় করে তা হবে অসহনীয়।

 দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে যোগ দিয়েছিল ক্যানেডিয়ান, অষ্ট্রেলিয়ান, নিউজিল্যাণ্ডার্স, কই তাদের বিরুদ্ধে বুয়রগণ ঘৃণা পোষণ করেন না কেন? ঘৃণা পোষণ না করবার কারণ আছে। তারা হল বুয়রদের সমশ্রেণীর লোক। আর আমরা হলাম মিশ্রজাত। শ্বেতকায়দের সমশ্রেণীর লোক নই। আমাদের আচার ব্যবহার অন্য রকমের, সেজন্যই বুয়রগণ এখনও বুয়র যুদ্ধের কথা মনে রেখেছে।

 সেদিন দুপুর বেলায় যখন আমি কোন গ্রাম পেলাম না তখন মানচিত্র খুলে পথের পাশে বসে পড়লাম। দেখতে পেলাম আর পচাত্তর মাইল গেলেই রডেসিয়ার সীমা শেষ হবে। পচাত্তর মাইল চলা বিশেষ কঠিন কাজ নয় ভেবে মনে বেশ আনন্দ হল। এগিয়ে চললাম। এক এক করে মাইল গুণে যখন দেখলাম প্রায় পনর মাইল চলে এসেছি তখন আমার প্রাণে নবচেতনার উদ্রেক হল। পথের পাশেই রাত কাটাতে হবে ঠিক করে বিশ্রামের স্থান ঠিক করবার জন্য একটু পায়চারী করছিলাম। ইত্যবসরে একটি ছোট্ট নিগ্রোর সংগে দেখা হয়। লোকটিকে বামন বলেই মনে হল। তার সংগে আরও দুটি লোক ছিল। আমাকে পেয়ে তাদের কত আনন্দ। তাদের সিগারেট দেওয়ায় তারা আরও খুসী হল। তারা ছিল একেবারে উলঙ্গ। তাদের হাতে ছিল তীর-ধনু। তীরধনুগুলি খুবই ছোট।

 বিকাল চারটার পূর্বেই শুইবার স্থান করে নিলাম। তিনটি নিগ্রো আমার কাছে বসল। তাদের প্রকৃতি ছিল চঞ্চল, গাছের পাতা নড়লেই কেঁপে উঠে। কথা বলা ত দূরের কথা ইঙ্গিতও ভাল করে বুঝতে