বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৬৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১৬২

পারে না। তাদের জল আনতে বললাম। জল যে কি পদার্থ তাদের বুঝাতে পারলাম না। অবশেষে ওয়াটার বোতল থেকে জল বের করে দেখালাম। তখন তারা জল কাকে বলে জানল এবং আমাকে নিয়ে নিকটস্থ একটি নালাতে গেল। জলের কাছে গেল কিন্তু জলে নামল না। পশুর মতই জল খেল। আমাকে আবার পথের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েই চলে যেতে চাইল। আমি তাতে রাজি হলাম না। যেখানে থাকব বলে ঠিক করেছিলাম সেখান পর্যন্ত যেতে বললাম। সিগারেট দেব লোভ দেখালাম, কিন্তু কোনমতেই তারা এল না। তারা চলে গেলে মনে হল বোধহয় ওয়া ব্যুসম্যান। পরে জেনেছিলাম এ অঞ্চলে ব্যুসম্যানরা যাওয়া আসা করে।

 রাত বেশ আরামেই কাটল। পরের দিন সকাল বেলা নবোদ্যমে পথে বের হলাম। ষাট মাইল পথ যেতে হবে। উঁচু-নীচু পথের জন্য একটুও দুঃখিত হলাম না। যতই পথ এগিয়ে যেতে লাগলাম ততই নূতনের গন্ধ পাচ্ছিলাম। কতক্ষণ চলার পর পেলাম একটা পেট্রল পাম্প। সেখানে ছিল কয়েকজন নিগ্রো আর একজন ইউরোপীয়ান। ইচ্ছা করলেই এখানে থাকতে পারতাম কিন্তু থাকলাম না। বেটব্রিজ যেন আমাকে টেনে নিয়ে চলছিল। লক্ষ্য করছিলাম ক্রমেই ভূমি উঁচু হয়ে উঠেছে। পাহার নেই, পর্বত নেই অথচ ভূমি উঁচু। এতেও দুঃখ হল না। চল্লিশ মাইল চলার পর আর অগ্রসর হতে ইচ্ছা হচ্ছিল না। শরীরের বল হারিয়ে ফেলছিলাম। সঙ্গে খাদ্য ছিল না। কি করতে হবে তা ভেবে পাচ্ছিলাম না। ঠিক এই সময় একজন পাদ্রীর সংগে দেখা হল। তাঁর সংগে অন্য শ্বেতকায় ছিল বলে তিনি আমাকে সংগে নিতে পারলেন না। কিন্তু রুটি, জল এবং এক প্যাকেট সিগারেট বিনামূল্যে দিতে ভোলেন নাই। চলে যাবার সময় বললেন “ব্যাটব্রিজে