বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৬৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬৩
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

আমার বাড়ীতে থাকবেন। সেখানে বর্ণ-বৈষম্য নেই।” পাদ্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়েছিলাম।

 পরদিন সকাল বেলা যখন রওয়ানা হলাম তখন মনে বেশ আমার পাচ্ছিলাম। কুড়ি মাইল পথ দ্বিগ্রহের পূর্বেই শেষ করলাম। সাধের ব্যাটব্রিজে পৌঁছলাম। ব্যাটব্রিজের ওপারে অর্থাৎ রডেসিয়ার দিকে মাত্র কয়েকখানা দোকান। দোকানগুলি প্রশস্থ এবং পাকাবাড়ী। একখানা হোটেলও আছে। হোটেলে ইণ্ডিয়ানদের প্রবেশ নিষেধ। কাষ্টমস্ হাউস দোকান ঘরগুলির পাশেই। অনেকদিন পর সভ্যতার সন্ধান পেয়ে বড়ই আনন্দিত হলাম। সর্বপ্রথমই দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গ হতে প্রকাশিত রেণ্ড ইভিনিং নিউজ কিনলাম। সেখানে মস্কো নিউজ প্রকাশ্যে বিক্রি হতে দেখে একখানা মস্কো নিউজও নিলাম। তারপর গেলাম নিগ্রো গ্রামে। নিগ্রো গ্রামটা একেবারে অপরিষ্কার! বিভিন্ন দেশের নিগ্রোরা এখানে বাস করে। গ্রামের উন্নতির চেষ্টা কেউ করে না। নিগ্রো গ্রাম দেখে পাদ্রীর বাড়ীর খোঁজে বের হলাম। পাদ্রীর বাড়ী কাছেই ছিল, কিন্তু আমার ধারণা হচ্ছিল না এটা কি করে একজন পাদ্রীর বাড়ী হতে পারে।

 মস্তবড় একতলা বাড়ী। তাতে অনেকগুলি কোঠা। বাড়ীর সামনে মস্তবড় বাগিচা। অনেক চিন্তা করে যখন বাড়ীর সামনে দাঁড়ালাম তখন একজন মহিলাকে পেয়ে তার কাছেই থাকবার আব্দার জানালাম। মহিলা কানে একটু কম শুনতেন। একটানা বলে যেতে লাগলেন, “আপনার কথা আমার ভাই বলে গেছেন। আমাদের বাড়ীটা হোটেল ভিন্ন আর কিছুই নয়। এখানে বিপদগ্রস্থ ইণ্ডিয়ানদের স্থান দেওয়া হয়। শুনেছি আপনি দক্ষিণ আফ্রিকাতে যাবেন। দক্ষিণ আফ্রিকাতে প্রবেশ করা তত সহজ নয়। আপনাকে অন্তত দুদিন