বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

চার পাঁচটার সময় গাড়ী পাওয়া যাবে। গাড়ীর সময় হয়ে আসল, ষ্টেশনে যেয়ে টিকিট কেনার সময় ষ্টেশন মাষ্টারের সংগে পরিচয় হয়। তিনি বড়ই মিষ্টভাষী। গাড়ীর টিকিট কিন্‌ছি দেখে সুখী হলেন এবং বললেন “এরূপ বনে জংগলে ভদ্রলোকের সাইকেল নিয়ে ভ্রমণ করা কঠিন কাজ। হয়ত ভ্রমণের পর ক্ষয় রোগও হতে পারে। নিগ্রোরা অতি পরিশ্রমে অনেক সময় ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হয় এবং আপনি সে পথের পথিক নন সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ।”

 ষ্টেশন মাষ্টারের ধন্যবাদে সুখী হলাম না কারণ তার মুখ থেকে এমন একটি কথা বেরিয়ে পড়ছিল যা শুনে আমার দুঃখই হয়েছিল। অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে যক্ষা হয়। নিগ্রোরা অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে বাধ্য, অথবা তাদের বাধ্য করা হয় এই ধরণেরই কথাটা ছিল। ষ্টেশন মাষ্টারকে এ সম্বন্ধে কিছুই বললাম না, শুধু মামুলী ধন্যবাদ জানিয়েই গাড়ীতে বসলাম।

 ষ্টেশন মাষ্টার বললেন “এখন আপনি রডেসিয়ার পথে, মংগঙ্গময় ঈশ্বর জাপনাকে নিরাপদে ইম্‌তালী পৌঁছে দিন এই আমার কামনা।”

 আমার মংগলামংগল আমার উপরই নির্ভর করে সেকথা আমি জানতাম, কিন্তু যারা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে তাদের সংগে যদি এ সম্বন্ধে তর্ক করা হয় তবে তারা সোজা কথায় বলে “লোকটা কমিউনিষ্ট” আজকাল এ সম্বন্ধে মুখ বন্ধ রাখাই ভাল। সাংখ্যদর্শন পড়ে ও মুখ বন্ধ রাখবার সময় এসেছে, ঈশ্বর সম্বন্ধে এই ধরনের সন্ত্রাসবাদ শংকরের সময়েও বিদ্যমান ছিল।

 গাড়ী ছাড়বার পূর্বে নিগ্রোলোকটিকে কাছে ডেকে তার সংগে করমর্দন করলাম। সে শ্বেতকায় ষ্টেশন মাষ্টারের ভয়ে আমার কাছে আসতে সাহস করছিল না।