বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

 গাড়ী পার্বত্য পথে এঁকেবেঁকে চলছিল। যখনই গাড়ী মোড় ফেরাচ্ছিল তখনই তন্দ্রা ভেঙ্গে যাচ্ছিল। আমার মত অনেকেরই তা ভেংগে যাওয়ায় বসে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। রাত তিনটা বাজবার পর গাড়ীটা একটি জংলী ষ্টেশনে দাঁড়ল। যাত্রী উঠলও না শুধু তিনজন কাষ্টম অফিসার এবং দুজন ইমিগ্রেসন অফিসার গাড়ীতে উঠল। ইমিগ্রেসন অফিসারগণ গাড়ীতে উঠেই আমার কম্পার্টমেণ্টে আসল এবং আমাকে বসা দেখে ভদ্রতাসূচক কোন কথা না বলে বলল “হ্যালো ব্লেকী কেমন আছ?”

 আমি বললাম “ye, How do ye do”? তোরা কেমন আছিস্?

 মনে হল আমার কথা ওরা বুঝতে পারে নি, সেজন্য বললাম “হ্যালো শ্বেতনিগ্রো, (White Negroes) কেমন আছ?

 ওরা চিৎকার করে বললে “আমরা নিগ্রো নই আমরা ইউরোপীয়ান।”

 রং সাদা হতে পারে কিন্তু ব্যবহার নিগ্রোর মতই।

 আমার কথা শুনে লোকটা আর কথা বাড়াল না, শুধু পাসপোর্ট দেখতে চাইল। এরা যখন আমার পাসপোর্ট দেখছিল তখন ওদের সিগারেট দিলাম এবং নিজেও একটি সিগারেট ধরিয়ে বললাম “মনে করোনা তোমার দেশ দেখার জন্য ব্যস্ত হয়েছি, দক্ষিণ আফ্রিকাতে যাচ্ছি পথে তোমাদের দেশ সেজন্যই এসেছি। হয়ত দু এক সপ্তাহ থাকতেও পারি তার পরই চলে যাব। এই দেখ দক্ষিণ আফ্রিকা যাবার ভিসা আমার আছে।” লোকটা পাসপোর্ট রেখে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইমিগ্রেসন বিভাগের পত্র দেখল এবং মনের ভাব বদলে ফেলে পাসপোর্টে ভিসা লিখে বলল জাম্বাবী ধ্বসস্তূত এবং ভিক্টোরিয়া ফলস্ নিশ্চয়ই দেখে যাবেন।