বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
১৮

 তা দেখতেই এদেশে এসেছি।

 লোকটির ভদ্রতা তখন চরমে উঠল এবং কতক্ষণ কথা বলার পরই স্থানীয় রাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা আরম্ভ করল। রাজনীতি নিয়ে কথা বলা বড়ই কষ্টকর কাজ। জানতাম রডেসিয়ার লোক ফাসিস্ত ভাবাপন্ন সেজন্য তার প্রতিটি কথার প্রত্যুত্তরে নিজেকে ফাসিস্ত ভাবাপন্ন বলে পরিচয় দিয়ে উদারনীতির বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করলাম। কমিউনিজমের গন্ধ আমার শরীরে না পেয়ে কতক্ষণ পর লোকটা গাড়ী হতে নেমে গেল। সে চলে যাবার পরও নিশ্চিন্ত হয়ে বসতে পারলাম না। কতক্ষণ পরই আর একদল কাষ্টম্‌স্‌ অফিসার গাড়ীতে উঠল এবং এদেরও কথাবার্তার দ্বারা সন্তুষ্ট করতে হল।

 সকাল বেলা দেখেই যেমন দিনের আবহাওয়ার কথা বলতে পারা যায়, তেমনি রডেসিয়ার সরকারী কর্মচারীদের মুখ দেখলেই বুঝা যায় ওরা সকলেই সাম্রাজ্যবাদী। এসব লোক দুমুখো সাপের মত। যাই বল না কেন তাতেই খুঁত বের করবে। বিদেশে গিয়ে চুপ্ করে বসে থাকলেও চলে না। ধর্ম্মের কথা শিক্ষিত লোক কখনও প্রকাশ্য স্থানে বলাবলি করে না। সভ্য জগতে আজ ধর্মসংক্রান্ত কথা হয় বাজে কথায় পরিণত হয়েছে নয় ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বাকি থাকে রাষ্ট্রনীতি। রাষ্ট্রনীতির সংগে জীবন-মরণের সম্বন্ধ রয়েছে। ধনীদের কর্মচারীরাই খাঁটী ফাসিস্তে পরিণত হয়। রডেসিয়ার সরকারী কর্মচারীরাও ধনীদেরই চাকর। এদের মনে কখন কি আসে বলা যায় না, সেজন্য আজে-বাজে কথা বলা ছাড়া আমার উপায় ছিল না।

 পর্যটক দেখলেই এদের কথা বলার স্পৃহা বাড়ে। বাজে কথায় রডেসিয়ার কাষ্টম অফিসার সুখী হল না। তারা ভাল করেই বুঝতে পেরেছিল রডেসিয়াতে আমি থাকব না, সেজন্য বলল আপনার বাজে