পরিচয় পেয়ে তিনি সুখী হলেন এবং ঘরের দিকে মুখ বেড়িয়ে বললেস “সোসী এদিকে এক পেয়ালা চা নিয়ে এস দেশের লোক এসেছেন।”
ভেতর থেকে সোসী বললেস “জ্যনি একটু দেরী হবে, দেশের লোককে বসাও, চা নিয়ে আসছি!
স্বামী-স্ত্রীর কথা শেষ হয়ে গেলে জ্যনি তাঁর আত্মজীবনী বলতে আরম্ভ করলেন। তিনি তার যৌবনে বিদেশে বেড়িয়ে পরেন এবং পায়ে হেঁটে আফ্রিকাতে পৌঁছেন। পথে সুয়েজ খাল নৌকার সাহায্যে পার হতে হয়েছিল। বাকি সব পথটাই তিনি হেটেছিলেন। সেই পুরাতন ভ্রমণ কাহিনী যখন তিনি আমার কাছে মহানন্দে বলছিলেন তখন তার স্ত্রী চা নিয়ে এলেন। জ্যনির তখন গল্প বলা একেবারে বন্ধ হয়ে গেল। মনে হল তার স্ত্রী জ্যনির ভ্রমণ কথা শুনতে পছন্দ করেন না। জ্যনির স্ত্রীকে আমাদের প্রথায় নমস্কার করলাম। এতে তিনি সুখী হলেন, আমার মনে হল হাত জোড় করে নমস্কার করলে বোধ হয় বনের পশুতেও দয়ার উদ্রেক হয়। নমস্কারে যতটুকু দৈন্যতা প্রকাশ পায় অন্য কিছুতেই ততটুকু পায় না। নমস্কার দ্রাবিড় সংস্কৃতি। চীনাদের মধ্যেও নমস্কার প্রথার প্রচলন আছে। তারাও দৈন্যতা দেখাতে কসুর করে না।
বুদ্ধের স্ত্রী বোধহয় আমার কাছ থেকেই সর্বপ্রথম নমস্কার পেয়েছিলেন সেজন্যই তার এত আনন্দ। বৃদ্ধ জ্যনি তার নিজের চেয়ার তার নিজের স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন।
জ্যনির স্ত্রী তিন পেয়ালা চা তৈরী করে বৃদ্ধের হাতেই সর্বপ্রথম দিলেন তারপর দিলেন আমাকে। নিজের পেয়ালাতে মুখ দিয়েই বললেন “বেশ ভাল চা হয়েছে”, এখন বলুন আপনার দেশ কোথায়, কোন ধর্ম এবং নিগ্রোদের সম্বন্ধে আপনি কি মত পোষন করেন?
বৃদ্ধার তিনটি প্রশ্ন শুনে তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধাই হয়েছিল। তাকে