আমার জন্মভূমির কথা বলে যখন ধর্মের কথা বলতে যাচ্ছিলাম তখন জ্যনি বাঁধা দিয়ে বললেন “ইনি বাংগালী বেনে নন্।”
বুঝতে পারলাম বৃদ্ধা এত তাড়াতাড়ি কেন কথাটা বদলে দিচ্ছেন। বিদেশে গিয়েও কতকগুলি হিন্দু তাদের কুসস্কার পরিত্যাগ করে না। হিন্দু এবং মুসললান তাদের কুসংস্কার আকড়ে ধরে রাখতে সমান তালে পা ফেলে এগিয়ে চলে। বিদেশে বাংগালী বড়ই উদার। সে তার কুসংস্কার ভুলে গিয়ে ইণ্টারন্যাসনেল হয়ে যায় সেজন্য বাংগালী, হিন্দু মুসলমান সকলের কাছে সম্মানিত।
ধর্মের কথা আমাকে বলতে হল না। নিগ্রোদের আমি ঘৃণা করি না বলেই ক্ষান্ত থাকলাম না। কি করে নিগ্রোদের উন্নতি হবে সে সম্বন্ধেও দু’ একটি কথা বলায় বৃদ্ধা আমার প্রতি সদয় হলেন এবং সেদিনই রাত্রে তার বাড়ীতে খাবার নিমন্ত্রণ করলেন।
বৃদ্ধ জ্যনি বেশিক্ষণ আমাকে তার ঘরে বসিয়ে রাখলেন না—নিকটস্থ প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী এবং ধনী লালজীর ঘরের দিকে নিয়ে চললেন। তখন পথেও লোক চলাচল আরম্ভ হয় নাই। পথের দু’দিকের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা দেখে মনে হল এরূপ করে পথ পরিষ্কার রাখা অনেক শহরেই সম্ভব হয় না।
পাশের ফুল বাগিচা হতে ফুলের সুগন্ধ সমেত প্রাতঃকালীন নির্মল বায়ু বয়ে আসছিল। মনে হচ্ছিল এটাই স্বর্গ। আমাদের দেশের লোক কাশ্মীরকে ভূস্বর্গ বলে। ১৯৩৭ সালে শ্রীনগর গিয়েছিলাম, সেখানে ফুলের গন্ধের বদলে অন্য কিছুর গন্ধ পেয়ে নাক রুমাল দিয়ে চেপে রাখতে হয়েছিল। স্বর্গ এবং নরকের স্রষ্টা মানুষ, আর কেহই নয়।
অল্পক্ষণ পরই আমরা লালজীর ঘরে পৌঁছলাম, লালজী তখন সংবাদপত্র পড়ছিলেন। আমাদের দেখতে পেয়ে তিনি উঠে দাঁড়ালেন