বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৩
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

এবং সাদর সম্ভাষণ জানালেন। বসার পর জ্যনি লালজীর কাছে আমার পরিচয় দিলেন। আমার পরিচয় পেয়ে লালজী সুখী হলেন এবং উভয়ের জন্য চা আনতে নিগ্রো বয়কে আদেশ করলেন। চা খাবার পর লালজী আমাকে উপরে নিয়ে গিয়ে তার স্ত্রীর সংগে পরিচয় করিয়ে দিলেন এবং বললেন “আমার অবর্তমানে আপনার যে-কোন অসুবিধার কথা আমার স্ত্রীর কাছে বলবেন, তিনি অতিথি সেবায় বড়ই তৎপর, আশা করি আমার বাড়ীতে আপনার কোন অসুবিধা হবে না।”

 নিগ্রো চাকরেরা নবাগত দেখলেই সুখী হয়, বকসিসের আশায় নয়, নূতন কিছু জানতে পারবে সেই ভরসায়। বয় আমার কাছ থেকে অনেক নূতন তথ্য সংগ্রহ করল, কিন্তু তার প্রশ্ন করার পদ্ধতি দেখে ভয় হল হয়ত একদা এই বয় শ্রেণীর লোকই শ্বেতকায়দের সংগে ইণ্ডিয়ানদেরও আফ্রিকা হতে বহিষ্কার করবে। বয়ের মনের ভাব বুঝতে পেরে রডেসিয়াতেই আমি বৈদেশিক সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে কমন ফ্রণ্ট তৈরী করার চেষ্টা করেছিলাম। দুঃখের বিষয় স্থানীয় ইণ্ডিয়ানরা আমার কথায় সায় দেন নাই বরং বিদ্রূপ করেছিলেন। এদের ভবিষ্যৎ কোন অন্ধকারে নিমজ্জিত তা কে জানে?

 লালজীর স্ত্রীর সংগে যখন দেখা হল তখন পাঠান তাঁকে সুপ্রভাত জানালেন এবং আমিও তাই করলাম। কথা বলে বুঝলাম লালজীর স্ত্রী শুধু পরদা সরিয়ে দিয়ে সুখী হন নাই তিনি যে একজন স্বাধীন মহিলা তারও পরিচয় দেন। লালজীর স্ত্রীর মত আর একজন ভারতীয় স্বাধীন মহিলা চীন দেশের হার্‌বিন্ শহরে দেখেছিলাম। সেই ভারতীয় মহিলা স্বামীর আয়ের উপর নির্ভর করতেন না অথচ সংসার ধর্মও ঠিকভাবে চালিয়ে যেতেন। স্বাধীনতাপ্রিয় রমণীদের চালচলনই পৃথক। তাদের স্বাধীন ভাব নাকে মুখে ফুটে উঠে।