গুজরাতীরা সকালের খাদ্যকে “নাস্তা” বলে। লালজী, জ্যনি এবং আমি এক সংগে নাস্তা করলাম এবং আমার সাইকেল ও পিঠ-ঝোলাটি লালজীর ধরমশালায় রেখে শহর দেখতে বের হলাম। তখন বেলা হয়েছিল। সকালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লোপ পেয়েছিল তবুও শহরটি দেখতে সুন্দর লাগছিল।
একটু বেড়িয়ে এসেই আমরা এক গোয়ানী ভদ্রলোকের বাড়ীতে উঠলাম। ভদ্রলোকের নাম ডিকস্টা। জ্যনি আমাকে ডিকস্টার সংগে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমার পরিচয় পেয়ে ডিকস্টার নাকে মুখে আনন্দের সঞ্চার হল। তিনি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিলেন না। কতক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “শরীরে আর শক্তি নেই, নতুবা আবার পৃথিবী ভ্রমণে বের হতাম। ভালই হয়েছে, পৃথিবীর কি পরিবর্তন হয়েছে তাই জেনে সুখী হব।” তারপরই তিনি আমাকে গোটা পঞ্চাশেক প্রশ্ন করলেন। তার প্রত্যেকটি জবাব দেবার পর তিনি বললেন, পৃথিবীর ঢের পরিবর্তন হয়েছে মিষ্টার জ্যনি, আপনি কি বলেন?
জানি বললেন, অনেক বৎসর পূর্বে দেশ ছেড়ে এসেছি, পরিবর্তন নিশ্চয়ই হয়েছে তবে আমার প্রশ্ন হবে অন্য ধরণের। স্থানের কি পরিবর্তন হয়েছে তা আমি জানতে চাই না, আমি জানতে চাই মানুষের কি পরিবর্তন হয়েছে?
ডিকস্টা বললেন “আমরা যখন এদেশে আসি তখন জাহাজের চলাচল খুব কমই ছিল কিন্তু তাতেও কষ্ট কম হয় নাই। মিষ্টার জ্যনি আপনার ত কষ্ট আরও বেশি হয়েছিল। আপনি এদেশে এসেছিলেন পায়ে হেটে, সে কি সহজ কাজ? আরব, ইরাণী কেউ আপনাকে ছেড়ে দেয় নাই। সবাই নিজেদের পাওনা আদায় করেছে। জুর করে মজুর খাঁটিয়েছে। আমরা নৌকাতে খেঁটেছি বটে সেজন্য মজুরীও পেয়েছি।