বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
২৬

কি না? মেয়ের মায়ের পাওনা পরিশোধ করতে পারলেই বিবাহ কর্ম সমাধা হয়।

 মিষ্টার ডিকস্‌টার স্ত্রী আমাদের কথা শুনছিলেন। কতক্ষণ পর তিনি ঘর থেকে বের হয়ে এসে আমাকে এক গ্লাস দুধ দিয়ে বললেন “যত অবতার পৃথিবীতে দেখতে পাওয়া যায় সকলের জন্ম স্থান এশিয়াতে, আমাদের দেশে একটা অবতারের জন্ম হউক তারপর সে যদি বলে স্বর্গ নরক আছে তখন তার সংগে আমরা কথা বলে দেখব সে ঠিক বলেছে কি মিথ্যা বলছে।”

 তোমরা প্রত্যেকেই একখানা করে ধর্মগ্রন্থ ইণ্ডিয়া হতে এনে আমাদেরে বল অবতার অমুক কথা বলেছেন, কিন্তু একজনের কথার সংগে অন্যজনের কথার ত কোন মতভেদ নেই, তবে কেন তোমরা একে অন্যে পৃথক থাক? আমরা এসব পারব না। তোমাদের অবতারগণ আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না। জ্যনির স্ত্রী শূকর খেতেন। জ্যনি তা খেতে দেন না বলে জ্যনির স্ত্রী এখন শূকর মাংস খাওয়া পরিত্যাগ করেছেন, এসব কি ভাল কথা? ডিকস্‌টার স্ত্রীর কথা শুনে মিষ্টার জ্যনির মুখায়বয়বের পরিবর্তন হল বটে কিন্তু জ্যনি ধর্মকথা পরিত্যাগ করে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ কেমন হবে সে বিষয়েই আলোচনা করতে প্রবৃত্ত হন।

 ১৯৩৮ খৃষ্টাব্দের মধ্যভাগের কথা বলছি। রডেসিয়ায় অর্দ্ধ-নিগ্রো ও নিগ্রোদের ভোটের অধিকার ছিল না বলে তারা ক্ষেপে উঠেছিল। তারা প্রকাশ্যে বলত “যুদ্ধই হউক আর শান্তিই হউক টাকার লোভ দেখিয়ে কেউ আমাদের যুদ্ধে নামাতে পারবে না। সংবাদ মারফতে জানতে পেরেছিলাম যতদিন জার্মাণী সোভিয়েট রুশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নাই ততদিন রডেশিয়ার নিগ্রো এবং অর্দ্ধ-নিগ্রোরা যুদ্ধ