বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৭
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

সম্বন্ধে কোন কথাই বলত না। কিন্তু যেদিন জার্মাণী রুশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল সেদিন থেকেই নিগ্রো এবং অর্দ্ধ-নিগ্রোরা জার্মাণীকে পরাজিত করবার জন্য বৃটিশকে প্রাণপণে সাহায্য করতে থাকে।

 মিষ্টার ডিকস্‌টার ঘর হতে বের হয়ে ছোট্ট শহরটি দেখবার জন্য পুনরায় বের হয়ে পড়লাম, তখনও দ্বিপ্রহর হয় নাই। সূর্য কিরণ এখানে সকল সময়ই উপভোগ্য। শহরের বৃক্ষরাজি সকল সময়ই সতেজ এবং তরুণ। পিচ দেওয়া পথের উপর বৃক্ষের ছায়া পড়ে শহরের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। শহরের কোথাও আবর্জনা অথবা ময়লাযুক্ত স্থান দেখতে পেলাম না। পথচারীরা কোথাও পথের উপর থুথু ফেলছিল না। শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং লোকের আচার ব্যবহার দেখে মনে হছিল সত্যই রডেসিয়ার ইম্‌তালী শহর একটি স্বর্গরাজ্য। তবে এখানে ইণ্ডিয়ান অথবা অন্য কোন এশিয়াটিকের দ্বারা পরিচালিত খাবারের দোকান অথবা রাত্রি যাপনের হোটেল দেখতে না পেয়ে দুঃখিত হলাম।

 শহরটি অনেকক্ষণ বেড়ানোর পর মনে হল ইউরোপের কোনও গ্রামে ভ্রমণ করছি। শহরের ঠিক মধ্যস্থল দিয়ে একটি চওড়া রাস্তা লম্বালম্বি হয়ে চলে গেছে। পথের দু’ পাশে বড় বড় দোকানে ইউরোপের পণ্য দ্বারা সুচারুরূপে সজ্জিত। দোকানগুলির পেছনে ছোট ছোট গলি। গলিতে অনেকগুলি মোটর কার পার্ক করা ছিল। গলির উভয় পাশে সুন্দর সুন্দর বাড়ী। এই বাড়ীগুলিতে অর্দ্ধ-নিগ্রো, দরিদ্র ইউরোপীয়ানগণ এবং ভারতবাসী বসবাস করে। শুনলাম এখানকার প্রত্যেকটি ভারতবাসীর একখানা করে মোটরকার আছে এবং সেজন্যই এতগুলি মোটরকার পথের পাশে দেখতে পাওয়া যায়।

 শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে একটি নিগ্রো পরিবারও ছিল না।