অনেকে বলে নিগ্রোদের শহরে বাস করতে দেওয়া হয় না, কেন নিগ্রোদের শহরে বাস করতে দেওয়া হয় না তার উত্তর একজন ভারতবাসী দিয়েছিলেন। এদেশের নিগ্রোরা শহরে বাস করার শিক্ষা এখনও পায় নাই। যারা পেয়েছে তারা ইচ্ছা করলেই শহরে এসে বাস করতে পারে। কথার ভাবে বুঝলাম ভারতীয় ব্যবসায়ী মহাশয় নিগ্রোদের শহরে বাস করার বিরুদ্ধ মত পোষণ করেন। এটা হবার কথাই। গোলাম অপরকে গোলামই করে রাখতে চায়।
ইম্তালী শহরটিকে ইউরোপের গ্রামের সংগে তুলনা করেছি। অনেকে হয়ত জিজ্ঞাসা করবেন ইউরোপের গ্রাম কি এতই পরিষ্কার? ইউরোপের গ্রামে কি কোন গৃহপালিত জন্তু নাই? এই প্রশ্নগুলির উত্তরে বলব ইউরোপের গ্রামে গৃহপালিত পশু থাকে না। কোনরূপ গোলাবাড়ী ইউরোপের গ্রামের কাছে রাখতে দেওয়া হয় না। ইউরোপের গ্রামে যেয়ে লোক বায়ু পরিবর্তন করে। এতে বুঝতে পারা যায় ইউরোপের গ্রামগুলি কত উন্নত। ইউরোপের গ্রামের কথা ইউরোপ ভ্রমণে লিখেছি অতএব এসব বিষয় নিয়ে এখানে পুনরায় আলোচনা করা চর্ব্বিতচর্ব্বন মাত্র।
শহর পরিভ্রমণ করে লালজীর বাড়ীতে ফিরে গেলাম। লালজী আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। খেতে বসে লালজী দম্ভ করে বললেন ইণ্ডিয়ানদের মধ্যে কেবল তিনিই স্থানীয় লাইব্রেরী হতে বই এনে পড়তে পারেন। লাইব্রেরীতে ইণ্ডিয়ানদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। বই-এর লিষ্ট দেখে নিগ্রো বয়-এর মারফতে লাইব্রেরী হতে বই আনাতে হয়। ভাবলাম আজই বিকালে স্থানীয় লাইব্রেরীতে গিয়ে কিছুটা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। খেতে বসে লালজীর অনেক কথাই শুনলাম কিন্তু বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করবার মত আর কিছুই পেলাম না।