বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৯
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

 বিকাল বেলা শহরের লাইব্রেরীর দিকে রওয়ানা হলাম। পথে অনেকেই জিজ্ঞাসা করল কোথায় যাচ্ছি? সকলকেই বললাম লাইব্রেরীর কথা—লাইব্রেরীতে গিয়ে কি করি তা দেখার জন্য অনেকেই সংগ নিল। সাথীদের বললাম অপর ফুটপাথে যেয়ে দাঁড়ান, আপনাদেরে আমার সংগে দেখলে লাইব্রেরীয়ান্ হয়ত তার স্বরূপ না-ও দেখাতে পারে। আমার কথায় সকলেই সুখী হল এবং অন্য ফুটপাথে যেয়ে এমনিস্থানে দাঁড়াল যাতে লাইব্রেরীয়ান্ তাদের মুখ দেখতে না পারে। লাইব্রেরীর দরজার কাছে যেয়ে একটুও না দাঁড়িয়ে সোজা ঘরের ভেতর গিয়ে উঠলাম এবং লাইব্রেরীর শো-রুমে যে বই ছিল তাই দেখায় মন দিলাম। বই দেখা হয়ে গেলে যেস্থানে বসে লোক দৈনিক সংবাদপত্র পড়ে সেখানে যেয়ে একটি চেয়ারে বসে একখানা সংবাদপত্রে চোখ বুলাতে আরম্ভ করলাম। এমনি সময় লাইব্রেরীয়ান্ ধীরপদনিক্ষেপে আমার কাছে আসল এবং আমার ঘারে হাতটা রেখে বললে “তবে তোমার ইংলিশ জানা আছে?”

 আমি তার দিকে চেয়ে বললাম “আমি তোমাকে চিনি না দূরে সরে দাঁড়াও।”

 লোকটা বললে “আমি এখানকার লাইব্রেরীয়ান্”

 তোমাকে ধন্যবাদ, আমার মনে হয় তুমি একজন দার্শনিক—নয় অভদ্র। আমার ঘারে হাত রাখার তোমার কোনও অধিকার নাই।

 লাইব্রেরীয়ান আর ধৈর্য রাখতে পারল না। সে আমার হাত ধরে টেনে ঘরের বাইরে এনে একটা সাইন বোর্ড দেখাল। তাতে লেখা ছিল Only for Europeans—“শুধু ইউরোপীয়ানদের জন্য।” এরপর আর আমার বলার কিছুই ছিল না। চলে আসবার সময় বললাল “সাইন বোর্ডটি দরজার সামনে টাংগিয়ে দিলেই ভাল হত? লাইব্রেরীয়ান্ আর